মোঃ রোকনুজ্জামান টিপু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালার শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের বাইরে রেখে পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি শ্রেণিতে ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাঠদান করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সেখানকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এসংক্রান্তে বিদ্যাপীঠের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। তবে প্রধান শিক্ষক বলছেন, অভিযোগ হলে কর্তৃপক্ষকেই জবাবদিহি করবেন তিনি।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণিত বিষয়ের নির্দিষ্ট শিক্ষক থাকা স্বত্তে¡ও ষষ্ঠ, ৭ম ও ৯ম শ্রেণির গণিতের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে বাণিজ্য ও ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক দিয়ে । এতে করে তাদের মেয়েদের গণিত বিষয়ের বেসিক জ্ঞান অত্যন্ত দূর্বল। অনেকাংশে তারা গণিতে মুখস্থ নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানকার শিক্ষার্থীদের যথাযথ মেধার বিকাশ ঘটছেনা বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগের ভিত্তিতে শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল কর্তৃক গঠিত রুটিনে দেখা গেছে, গণিতের নির্দিষ্ঠ শিক্ষক আসলাম আল মেহেদীকে দিয়ে অষ্ঠম ও দশম শ্রেণির নির্ধারিত গণিতের ক্লাসে পাঠদানের পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি শারিরীক শিক্ষা, অষ্ঠম শ্রেণির তথ্য ও প্রযুক্তি এবং নবম শ্রেণিতে রসায়ন ও দশম শ্রেণির উচ্চতর গণিতের পাঠদান করানো হচ্ছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে গণিতের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে ব্যবসায় শিক্ষার নবকৃষ্ণ মন্ডলকে দিয়ে।আর ৯ম শ্রেণির গণিতের পাঠদান করছেন ভৌত বিজ্ঞানের মো: সাইদুজ্জামান।
এছাড়া নির্ধারিত ইংরেজীর শিক্ষক এস এম মঞ্জুরে মওলাকে দিয়ে ইংরেজীর পাশাপাশি ১০ম শ্রেণির পৌরনীতি ও শারিরীক শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। অন্যদিকে শারিরীক শিক্ষার নির্দিষ্ঠ শিক্ষক মো: শফিকুল ইসলামকে দিয়ে ৯ম শ্রেণির বাংলা ২য়, ১০ শ্রেণির বাংলা ১ম বিষয়ের পাঠদান করানো হচ্ছে। তবে বাংলার শিক্ষক বর্তমানে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।এছাড়া কৃষি শিক্ষার নির্দিষ্ট শিক্ষক বিশ্বজিৎ কুমার গুহ থাকলেও সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক সেলিম রেজাকে দিয়ে ৭ম শ্রেণির কৃষি, ৬ষ্ঠ শ্রেণির বাংলা, অষ্টম শ্রেণির সমাজ কর্ম ও ৭ম শ্রেণির চারু-কারু বিষয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষি শিক্ষার বিশ্বজিৎ গুহ, ১০ম শ্রেণির কৃষি শিক্ষার পাশাপাশি ৭ম শ্রেণির বাংলা,৯ম শ্রেণির হিন্দু ধর্ম,৭ম শ্রেণির বাংলা প্রথম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির হিন্দু ধর্ম ক্লাসে পাঠদান করাচ্ছেন। ভূগোলের শিক্ষক মৌসুমী মিত্রকে দিয়ে নবম ও ১০ ম শ্রেণির ভূগোলের পাশাপাশি ১০ শ্রেণির ইতহাস, ৬ষ্ঠ শ্রেণির কৃষি,৮ম শ্রেণির হিন্দু ধর্ম,৭ম শ্রেণির চারু ও কারু এবং পাঠ দান করানো হচ্ছে।এখানেই শেষ নয় ক্লাস রুটিনে দেখা গেছে কোন কোন শিক্ষককে দিয়ে দিনে একটি বা দুটি করে ক্লাস করানো হয়,আবার কোন কোন শিক্ষককে দিয়ে দিনে ৪ থেকে ৫টি করে ক্লাস করানো হচ্ছে।এমন বৈষম্যের ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের বাইরে রেখে ভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পাঠদানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের একাংশ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বার্ষিক গোপন প্রতিবেদনের(এসিআর) ভয় দেখানো হয় বলে জানাগেছে।এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার তরফদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন,তার স্কুলে কোন অফিস স্টাফ নেই,শিক্ষকদের দিয়েই অফিসিয়াল কাজ করানো হয় বলে ক্লাস রুটিনটা ঐ ভাবে সাজানো হয়েছে। এনিয়ে কোথাও অভিযোগ হলে কেবল কর্তৃপক্ষকেই জবাবদিহি করবেন বলে জানান।এসময় উল্টো সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন করেন যে, নির্দিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকলে তিনি কাকে দিয়ে সে বিষয়ে পাঠদান করাবেন?তবে বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখা মাউশি অধিদপ্ত এর তালিকায় দেখা যায় শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সর্বমোট ১৭ টি বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক পদের বিপরিতে ১৫ টি শিক্ষক পদ পুরন রয়েছে। সহকারি প্রধান শিক্ষক ও সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষক পদ দুটি শূণ্য থাকায় প্রধান শিক্ষক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকার দোহাই দিচ্ছেন।এবিষয়ে শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ^াস কালের কণ্ঠকে বলেন,তিনি কোন লিখিত অভিযোগ পান নি। এসময় তিনি আরো বলেন,গত বৃহস্পতিবার তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।তবে অফিসে কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।এদিকে এব্যাপারে গত ১৬/৯/২০০৩ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের শিম/শা:১০/বিবিধ-১/৯৮/৬৯৮ স্মারকে এক আদেশে বলা হয়, মাধ্যমিক স্কুলে ইংরেজি,বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়োগোত্তর বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান স্বত্তে¡ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে তার বিষয়ের ক্লাস নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছেনা । ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকের মেধার অপচয় অন্যদিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ঐ আদেশে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের কর্মবন্টনের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরনের কথা বলা হয়। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতাকে সার্বেচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়। যা শহীদ আলী আহম্মদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুসরন করা হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবক থেকে শুরু করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা।এব্যাপারে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিভাবকসহ শিক্ষকরা ।