ফিরোজ আহম্মেদ,কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক অবৈধ ডেন্টাল ক্লিনিক। ৩ টি ক্লিনিক ছাড়া নিয়মমাফিক চিকিৎসক দেওয়া হয় না কোনোটিতে , নেই অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও বৈধ কাগজপত্র।আবার ক্লিনিকের জন্য যে ধরনের জায়গা আবশ্যক তাও নেই। সংকীর্ণ জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পুরনো যন্ত্রাংশের ব্যবহারে করা হচ্ছে দাতের চিকিৎসা । কালীগঞ্জ শহর ও বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় সর্বসাকুল্যে অর্ধ শতাধিক ডেন্টাল ক্লিনিক থাকলেও একটিতেও সরকারি অনুমোদন নেই। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে নামসর্বস্ব দন্ত চিকিৎসক দিয়েই এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা অধিকাংশই ডিপ্লোমা প্রশিক্ষনধারি, কেউ কোনো কোনো দন্ত চিকিৎসকের কাছে ২/৩ বছর থেকে কাজ শিখে নিজেই ডাক্তার সেজে বিশাল চেম্বার হাকিয়েছেন, আবার কেউ হাতুড়ে চিকিৎসক। নিজেদেরকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, আবার প্রেসক্রিপশন প্যাডেও নামের আগে ডাক্তার লিখছেন। এসব ডেন্টাল কেয়ারে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। শহর ও শহরের বাহিরের একাধিক ডেন্টাল ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্লিনিকে বিডিএস ডিগ্রীধারি ডেন্টাল সার্জন নেই। দক্ষ টেকনিশিয়ানও নেই। যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন, তারাই দাঁত তুলছেন। তারাই আবার ফিলিং, রুট ক্যানেল,ব্রীজ করা থেকে দাঁত বা মাড়ির যেকোনো ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার করছেন। নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাবরেটরি। কোন কোন ডেন্টাল ক্লিনিক এর মালিক বিভিন্ন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের নাম ব্যবহার করে আকর্ষণীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করছেন।একটি ক্লিনিকেও নেই কোনো রেট চার্ট।ফলে যে যার ইচ্ছামত রোগীর নিকট থেকে চিকিৎসা বাবদ টাকা আদায় করছেন। এদিকে সকল ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনভুক্ত হতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এ বিষয়টি কোনো প্রকার আমলে নানিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন মাসের পর মাস। কালীগঞ্জে এইসব ডেন্টাল ক্লিনিক এর মধ্যে অন্যতম হলো – ফিরোজ ডেন্টাল, শোভা ডেন্টাল,আমিন ডেন্টাল,মেহনাজ ডেন্টাল,সিটি ডেন্টাল,ইউনাইটেড ডেন্টাল,আপন ডেন্টাল,হাসিনা ডেন্টাল,পলি ডেন্টাল,মিলন ডেন্টাল,শামীম ডেন্টাল,মিন্টু ডেন্টাল,বারোবাজার এলাকায় সুমাইয়া ডেন্টাল,ঢাকা ডেন্টাল,আখি ডেন্টাল ও স্বর্ণালী ডেন্টাল।এইসব ডেন্টালের চমকপ্রদক বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা ব্যবহার করা হচ্ছে মাইক ও ক্যাবল নেটওয়ার্কে।অনেকে আবার বড় ডাক্তার সেজে একাধিক চেম্বারে রোগী দেখছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন শোভা ডেন্টালের স্বশিক্ষিত ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম।ফিরোজ ডেন্টালে ২০ বছর ধরে কাজ করেন জামাল।যিনি নিজেকে সবসময় ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্লিনিকটিতে সমস্ত রোগী দেখছেন। ব্যবস্থাপত্রে এন্টিবায়োটিক ওষুধও লিখছেন। অথচ তার একাডেমিক ও ডেন্টাল সংক্রান্ত কোনো ডিগ্রী নেই। আবার এই ডেন্টাল এর মালিক ফিরোজ আহমেদের পিতা ১০ বছর আগে মারা গেলেও এখনো সাইনবোর্ডে কিংবা ব্যানারে ডাক্তার হিসেবে তার নাম ব্যাবহার করা হচ্ছে। ডেন্টাল ক্লিনিক গুলোর এই সমস্ত অনিয়ম দেখভাল করার দায়িত্বে যে কর্তৃপক্ষ নিয়োজিত রয়েছেন তাদের ভুমিকার ব্যাপারে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আলমগীর হোসেন জানান,আমরা কালীগঞ্জ উপজেলায় যেসব ডেন্টাল ক্লিনিকগুলো ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের তালিকা করে অভিযানে নামবো। অবৈধ ক্লিনিক ও ডাক্তার নামধারী প্রতারকরা যাতে আর ব্যবসা পরিচালনা করতেন না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানী জানান,আইন বহির্ভূতভাবে যে সকল ডেন্টাল ক্লিনিক তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন তাদের বিরুদ্ধে অতিসত্বর অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনভাবেই যে সে যেখানে সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে দন্ত চিকিৎসা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবিবউল্লাহ হাবিব জানান,দন্ত চিকিৎসা প্রদানকারী প্রতিটি ডেন্টাল ক্লিনিককে নিবন্ধিত হতে হবে। নিয়ম অনুয়ায়ী ডেন্টাল ক্লিনিকের নিবন্ধন না থাকলে তাদের ক্লিনিক সীলগালাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নিয়ম মোতাবেক ডেন্টাল ক্লিনিক একজন বিডিএস ডিগ্রীধারি চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকতে হবে। এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।নিয়মের বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই।
কালিগঞ্জে অলিতে-গলিতে ভুয়া ডাক্তারদের গড়ে তুলা ডেন্টাল ক্লিনিকগুলো রোগীদেরকে অপচিকিৎসা প্রদান করছে সেই সব প্রতিষ্ঠান অচিরেই বন্ধ হোক এমনটি প্রত্যাশা করেন সাধারণ জনগণ।