সৈয়দ শওকত হোসেন,বাগেরহাট প্রতিনিধি: ভাষা আন্দোলনের প্রথম গানের গীতিকার ও সুরকার বাগেরহাটের চারণ কবি শেখ শামছুদ্দিন পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারী) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈটপুরস্থ কবির বাড়ীতে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। এসময় তিনি কবির পরিবারের খোঁজ খবর নেন। পরে কবির বড় ছেলে দেলোয়ার হোসেন খোকনকে একটি ইজিবাইক, তিনবান টিন ও নগদ ৯ হাজার টাকা এবং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে আরও ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক। দীর্ঘদিন পরে হলেও নগদ অর্থসহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সম্মান পেয়ে খুশি কবির পরিবার ও সন্তানরা।
এসময়, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোহাম্মাদ রিজাউল করিম, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোছাব্বেরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ শাহিনুজ্জামান, বেমরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন টগরসহ কবির স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দেলোয়ার হোসেন খোকনকে সুপারির ব্যবসা বৃদ্ধি করার জন্য নগদ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন টগর।
কবির ছেলে দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পরে খুবই আর্থিক কষ্টে বেঁচে রয়েছি আমরা। সাইকেলে করে বাজারে বাজারে সামান্য সুপারি বিক্রি করে আমার সংসার চলে। মাঝে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে চলাফেরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে আমার। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে যে সহযোগিতা করা হল এজন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আর্থিক বিষয়ের থেকে আমাদের কাছে বাবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বড় ব্যাপার। যদি বাবা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় তাহলে শেষ বয়সে আমি অন্তত শান্তিতে মতে পারব।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারণকবি সামছুদ্দিনের পরিবারকে নগদ অর্থ, টিন ও তার ছেলের ব্যবসার জন্য একটি ইজিবাইক প্রদান করেছি। জেলা প্রশাসনের এই সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাষ্ট্রভাষা গানের শ্রষ্ঠা চারণকবি শেখ সামছুদ্দিন। ভাষা আন্দোলনে জনমত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তার অবদান রয়েছে। এবিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব। যাতে তিনি ও তার পরিবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে পারেন।
উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের প্রথম গানের গীতিকার ও সুরকার বাগেরহাটের চারণ কবি শেখ শামসুদ্দিন ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে রঞ্জিত রাজপথ নিয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনামে ওইদিনই গান লেখেন তিনি। চিকিৎসার অভাবে নানা রোগে ভুগে ১৯৭৪ সালে মারা যান কবি শেখ শামসুদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে কবির মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসচ্ছে কবির পরিবার ও বাগেরহাটবাসী।