দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই ঘটছে কতৃপক্ষ নিরব

প্রকাশিত: ১৬-০৪-২০২১, সময়: ১৬:৪২ |
Share This

আওরঙ্গজেব কামাল : দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে হরহামেশাই ঘটছে কিন্ত এ বিষয়ে কতৃপক্ষ নিরব ভূমিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কখনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, কখনোবা প্রশাসন এসবের পেছনে থাকে। কিন্তু তাহলে সাংবাদিকরা কি ভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশে গত দেড় দশকে ২৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন; আহত হয়েছেন ৫৬১ জন।সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের বেড়ে যাওয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এ পেশার অনেকেই নাজেহাল হচ্ছেন। যেমন গতকাল দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার লালমনির হাট প্রতিনিধিকে অহেতুক গ্রেফতার ও হয়রানী। লালমনিরহাটে জাহাঙ্গীর আলম শাহীন নামের সাংবাদিককে এক বোতল ফেনসিডিলসহ আটক দেখিয়ে গরুর মতো রশিতে বেঁধে এরপর তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়। গত কয়েক দিন আগে খুলনার সাংবাদিক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান সহ তিন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেয়ণ করা হয়। বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্ধুল মান্নান ঢাকা প্রেস ক্লাবের সদস্য ও মিডিয়া তালিকা ভূক্ত পত্রিকা দৈনিক বাংলারদূত পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি ,ডেলি ডিটেকটিভ নিউজ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হওয়ার শর্তেও তাকে ভুয়া সাংবাদিক দেখিয়ে এক মাসের জেল দেওয়া হয়। গত সোমবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের হাতে কামাল হোসেন নামের এক সাংবাদিক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁকে দা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তাঁর ক্যামেরা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বেদম প্রহার করার পর তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল, শেষে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেছে। এমনি ভাবে প্রতিনিয়ত সাংবাদিক নির্যাতন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে পড়েছে এখন, যখন সাংবাদিকেরা শারীরিকভাবে আক্রান্ত হন। সাধারণত সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে থাকেন কিংবা প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্ক থাকে। ফলে সাংবাদিকদের হত্যা কিংবা নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে থেকেই যায়; সাংবাদিক নির্যাতন করলে শাস্তি পেতে হবে না, এমন মানসিকতা সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের মনে আরও সাহস জোগায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাবের চেয়ারম্যান ইজ্ঞিনিয়ার মোঃ হোসেন ভূইয়া বলেন সাংবাদিক মান্নান কে অহেতুক মিথ্যা মামলায় ফাসানো হয়েছে আমারা এ ঘটনার পি আইবি তদন্ত চাই। এ ছাড়া তিনি বলেন অতিদ্রুত সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক কাজী ফরিদ আহম্মেদ বলেন সাংবাদিক ঢাকা প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য এবং একজন পুরাতন সাংবাদিক তাকে ভূয়া সাংবাদিক হিসাকে জেল দেওয়া হয়েছে আমরা এই ঘটনার তীব্রপ্রতিবাদ জানাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানাই। তিনি বলেন যেখানেই সাংবাদিক নির্যাতন- সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা; আর যদি একজন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়। আর যদি কোনো সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। আর যদি কোনো সাংবাদিকের উপর হামলা করা হয়। সকল সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো। এ বিষয়ে ঢাকা টিভির চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ অঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলতাব মাহমুদ বলেন সাংবাদিক আব্দুল মান্নান দক্ষিণ অঞ্চল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমার জানা মতে তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে সাংবাদিকতা করেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমার মতে সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানী বন্ধ করতে সকল সাংবাদিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে কাজ করাটা এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ সরকার বলছে অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করতে। এমনটা যদি চলতে থাকে তাহলে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব কি ভাবে পালন করবেন। আমার অনুরোধ সরকার যেন সাংবাদিকদের স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়।
লেখকঃ আওরঙ্গজেব কামাল
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি,ঢাকা প্রেস ক্লাব
মহাসচিব,বাংলাদেশ ন্যাশনাল নিউজ ক্লাব

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে