কুষ্টিয়ায় চুরিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত-২০, আটক-১০

প্রকাশিত: ১২-০৪-২০২১, সময়: ১৩:০৪ |
Share This

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পূর্ব শত্রুতার জেরে সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থিত জিয়ারখি গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২০ জন। সোমবার সকালে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে স্থানীয়রা। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা দুপক্ষের সংঘর্ষ, হামলা পাল্টা হামলাসহ ঘরবাড়ীতে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ১০জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, জামাত-বিএনপির লোকদের দলে ভিড়িয়ে দলভারী করার অসুস্থ্য প্রতিযোগিতার দ্বন্দ ছিলো আগে থেকেই। এরই মধ্যে সদর উপজেলার ৩৬নং জিয়ারখী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মানাধীণ নতুন ভবনের উপকরন-সরঞ্জামসহ নির্মান সামগ্রী চুরি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থাণীয় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এঘটনার সুরাহ করতে ইতোপূর্বে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা শালিস-মিমাংসা করে দেন।
এবিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জিয়ারখির ওই এলাকায় পূর্ব থেকেই জামাত-বিএনপি সমর্থিত লোকজনদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করার প্রতিযোগিতা ছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে ওখানে একপক্ষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী সমর্থিত অবস্থান নেয়া এবং অন্যপক্ষ হেফাজতের সমর্থন নিয়ে অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষ মারদাঙ্গা হয়ে উঠে। বিষয়টি আইন শৃংখলা বাহিনীও অবগত ছিলেন; অথচ সময় মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় দুই পক্ষ আজ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
গতকাল বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আজিজুল হক সমর্থিত গ্রুপের লোকজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আহসান সর্দার সমর্থিত গ্রুপের লোকদের উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করলে নতুন করে এই সংঘর্ষে সূত্রপাত ঘটে। এসময় হামলা-পাল্টা হামলায় ইটপাটকেল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার হয়। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কুষ্টিয়া মডেল থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও আজ সোমবার সকালে আহসান সরদারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আজিজুল হকের লোকজনদের বাড়িঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুরসহ জিনিসপত্রসহ গরু ছাগল ও নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
সোমবার সকালে মারামরির ঘটনায় অন্তত: ২০জন গুরুতর আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: তাপস কুমার সরকার। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকার বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় হামলা পাল্টা হামলার অভিযোগে দুইপক্ষেরই পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এঘটনায় করা মামলার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে জড়িত সন্দেহে ১০জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে