কেশবপুরের অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্রাক্টর

প্রকাশিত: ১২-০৪-২০২১, সময়: ১২:৫০ |
Share This

এম. আব্দুল করিম কেশবপুর থেকে : যশোরের কেশবপুর পৌর শহরসহ উপজেলাব্যাপী শতাধিক ট্রাক্টর প্রতিদিন মাটি বহন করে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ট্রাক্টরের মাটি মেইন সড়কে পড়ে রাতের কুয়াশায় কর্দমাক্ত হয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দূর্ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই মরনযান বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন না করায় দিন দিন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত ০৮ মার্চ উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত ও থানা পুলিশ ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ করে ট্রাক্টরের চলাচল বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সবকটি ভাটায় প্রতিদিন কৃষি জমি থেকে ট্রাক্টরে মাটি আনা নেয়া করা হচ্ছে। মেইন সড়ক দিয়ে মাটি নেয়ার ফলে মাটি ছিটে রাস্তায় পড়ছে। এছাড়াও বিভিন্ন নিচু জমিতে মাটি নিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। খরচ কম হওয়ায় সর্বক্ষেত্রেই ট্রাক্টরের ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স বিহীন এই মরনযান কিশোর ও অল্প বয়স্ক ছেলেরা ড্রাইভিং করছে। তারা বেপরোয়া গতিতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ট্রাক্টরের মাটি রাস্তায় পড়ে রাতের কুয়াশায় পিচের রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পথচারীরা দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। উপজেলা ট্রাক্টর সমিতির সভাপতি মিন্টু জানান, কেশবপুরে প্রায় অর্ধ শতাধিক ট্রাক্টর রয়েছে এর মধ্যে ৩৪ টি ট্রাক্টরে মাটি, বালি ও ইট বহন করার কাজে ব্যবহৃত হয়। ট্রাক্টর সড়কে চলাচল করা অবৈধ সেটা আমরা জানি কিন্তু সরকারি কাজ ও মানুষের প্রযোজনে অহরহ ট্রাক্টর ব্যবহার করা হয়। ৫ বছর আগে ৩৪ জন ট্রাক্টর মালিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সড়কে অনেক অবৈধ যানবাহন চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেয়া হয় না কিন্তু ট্রাক্টর মালিকদের নানাবিধ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান বলেন, উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়। সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত ও থানা পুলিশ ট্রাফিক আইনের মাধ্যমে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জসীম উদ্দীন বলেন, ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি ট্রাক্টর আটক করে ট্রাফিক আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক ট্রাক্টর চালককে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যহত থাকবে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে