জয়পুরহাটে মোল্লা হিমাগারে রাখা আলু পঁচনে দিশেহারা কৃষক ও ব্যবসায়ীর

প্রকাশিত: ০২-১১-২০২১, সময়: ০৭:৪৩ |
Share This

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পৌর এলাকার ইটাখোলা ভাসিলা মোরে মোল্লা হিমাগার অবস্থিত বেসরকারি একটি হিমাগার কর্তৃপক্ষের নানা অবহেলায় কয়েক শ বস্তা আলু পচে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই হিমাগারে আলু রাখা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে ফলে আগাম ও মৌসুমে আলু চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
দ্বায়ত্বি শিল সূত্রে জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার পৌর এলাকার ইটাখোলা টু ভাসিলা রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত মোল্লা হিমাগার এলাকার কৃষক সহ দূরদূরান্তের কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীগণ তাদের আলু বীজ হিমাগারে মজুদ রাখে। রবি মৌসুমে তারা হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করে জীব রোপন কিংবা বিক্রয় করে। প্রতি বছরের ন্যায় এবার রবি মৌসুমে কৃষক ও ব্যবসায়ীগণ তাদের হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করে দেখতে পায় আলুতে প্রচুর পরিমানে পঁচন ধরেছে যা প্রতি বছরের ন্যায় এবার বেশি বলে মনে করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীগণ। ০২( নভেম্বর) সরজমিনে মোল্লা হিমাগার গিয়ে দেখা গেছে, ওই হিমাগারে কর্মরত শ্রমিকগণ হিমাগারের বাহিরে আলু মেঝেতে ঢেলে পঁচা আলু বাছায় করছে, আশপাশ ঘুরে লক্ষ করা যায় যেখানে সেখানে পঁচা আলুর স্তুপ, একটু পর পর সেই পঁচা আলু হিমাগারের বাহিরে মেইন রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হচ্ছে এতে রাস্তার এক পাশে বিশাল জায়গা জুড়ে দেখা গেছে সেই পঁচা আলু।
হিমাগারে সংরক্ষণে রাখা আলু ব্যবসায়ীগণ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবার আলু একটু বেশি পঁচেছে, কেউ বলছে তার ৮ বস্তা আলুতে ২ বস্তা পঁচে গেছে আবার কেউ কেউ বলছে ৫ বস্তাতে ১ বস্তা পঁচেছে, আবার কারো ৩ বস্তায় ২ বস্তা পঁচে গেছে। আলু কাঁচা মাল একটু পঁচে যাবে স্বাভাবিক তবে এবার পঁচনের হার টা একটু বেশি বলে মনে করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীগণ আর এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীগণ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। মোঃ রিয়াজ উদ্দিন নামের এই ব্যক্তি বলেন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারে নির্দিষ্ট মানের তাপমাত্রা না রাখা ও খরচ বাঁচানোর জন্য ঈদের সময় বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে দেওয়াসহ হিমাগার কর্তৃপক্ষের নানা অবহেলার কারণে আলু নষ্ট হয়েছে।ক্ষেতলাল ভাসিলা মোল্লা হিমাগরের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এবার আলু নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। কারণটা হচ্ছে গত বছর বা অন্যান্য বছরে এই সময়ে সংরক্ষণের আলু পরিমাণ যা থাকে তার প্রায় ৮০ ভাগ চলে যায়। বর্তমানে ২০ ভাগ আলু হিমাগার থেকে যায়নি। দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের ভয়ে আলু তুলছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগটি সত্য না, আলু তেমন পঁচন ধরেনি সব বস্তায় ভালো আছে, তাছাড়া আলু কাঁচা মাল একটু পঁচবেই সেটা সব স্টোরেই পঁচন ধরে। আর কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয়। কখনোই হিমাগারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি।

উপরে