আশাশুনির কুঁন্দুড়িয়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীর বিরুদ্ধে পাল্টা পাল্টি অভিযোগের তদন্ত

প্রকাশিত: ৩১-১০-২০২১, সময়: ১৬:০০ |
Share This

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনির কুঁন্দুড়িয়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীর বিরুদ্ধে পাল্টা পাল্টি অভিযোগের তদন্ত কেন্দ্রিক প্রধান শিক্ষকের গাত্রদাহ তুঙ্গে উঠেছে। সরেজমিনে ঘুরে জানাগেছে, গত ২৫ অক্টোবর উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগের তদন্তকার্য প্রাথমিকভাবে স্কুলের অফিস রুমে সম্পন্ন করেন জেলা শিক্ষা অফিসার। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ, স্থানীয় ইউপি সদস্য, অভিভাবক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রথমে তিনি শিক্ষকদের উপস্থিতির খাতা পরিদর্শনে প্রধান শিক্ষক মুর্শিদা খানমের মঞ্জুরকৃত ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত দেখতে পান। কিন্তু শিক্ষকদের উপস্থিতির খাতা পরিদর্শনে দেখাগেছে, ছুটি ছাড়াই তিনি অগ্রিম পরের দিনের উপস্থিতির স্বাক্ষর করেছেন। যা সরকারি বিধি বিধান পরিপন্থী। তদন্ত চলাকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন ও অভিযোগ লিখিতভাবে নেন। সভাপতি তদন্ত চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জানান, প্রধান শিক্ষকের ছুটি নেওয়ার বিষয়টি তিনি আদৌ জানেন না বা জানানো হয়নি। এছাড়া উপস্থিত ব্যক্তিদের শতকতা ৮০/৯০ জন ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের অসদাচারণ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি সহ নানাবিধ অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন এই স্কুলে থাকায় স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ একেবারেই বিনষ্ট হওয়ার পথে এমন উক্তি করে তারা এক বাক্যে তাকে অন্যত্র বদলী করার জন্য জোর সুপারিশ করেন। এখবরে গত ২৭ অক্টোবর তিনি স্বামীকে সাথে নিয়ে স্কুলে ঢুকেই গাত্রদাহ এত বেশি তুঙ্গে ওঠে যে, স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে ফুসে উঠে কথা বলতে দেখাগেছে। কিছু সময় স্কুলে উপস্থিত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্কুলের গেটের মুখে সভাপতির সাথে দেখা হলে পরনের কাপড় নাচিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার স্বামী সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোর সভাপতি হওয়ার সাদ মিটিয়ে দেব। কিভাবে সভাপতি থাকতে পারিস সেটা দেখে নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তোর হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হবে। এখবরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে স্কুল সংলগ্ন বাড়ী ওয়ালা নুর জাহান বেগম, দোকানদার আনার আলী সরদার, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক ও নয়ন সরকার সহ বেশ কয়েকজন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরন স্কুলের সভাপতি সহ আমাদের এলাকাবাসীর ভেতর অত্যান্ত ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনতি বিলম্বে আমরা তার অন্যত্র বদলীর দাবী করছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যান্ত পরিতাপের বিষয়। এলাকাবাসীর ভিতর ক্ষোভ-বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারন করেছে। তীক্ততা এত বেশি হয়েছে যে, এলাকার অধিকাংশ অভিভাবকগণ প্রধান শিক্ষককে অনতিবিলম্বে অন্যত্র বদলী করা না হলে আগামী বছর হয়তোবা তাদের ছেলে-মেয়েদের অন্যত্র ভর্তি করাতে পারে। স্কুলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রæত প্রধান শিক্ষকের অন্যত্র বদলী করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ রুদ্র হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন দীর্ঘ ৬/৭ বছর এই স্কুলের অবস্থানকারী প্রধান শিক্ষক মুর্শিদা খানমের খুটির জোর কোথায় ? প্রসঙ্গত: প্রধান শিক্ষক মুর্শিদা খাতুনের বিরুদ্ধে ম্যনেজিং কমিটি গঠনে অনিয়ম, কমিটি বাতিলের জন্য আদালতে মামলা দায়ের, এমপি মনোনীত বিদ্যোৎসাহী সদস্য গ্রহনে অনীহা, আর্থিক দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। তদন্তকালে বাদীসহ স্বাক্ষীরা লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য প্রদান করেন এবং মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন নং ১৫৭৭/২০২১ (ভার্চুয়াল কোর্ট) এর রায় প্রদর্শন করা হয়। যাতে “পক্ষগণকে নালিশী বিষয়ে দখল ও পদ সংক্রান্তে স্থিতিবস্থা বজায় রাখিতে নির্দেশনা প্রদান করা হইল” মর্মে অনুবাদকৃত রায় লিপিবদ্ধ আছে। অপর দিকে, বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী শিব প্রসাদ সরকারকে গত ২৮ মার্চ’১৩ তারিখে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে চাকরী পাইতে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও ভোটার তালিকায় তার বয়স পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিবপদ সরকার এসময় তার এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন সহ স্বপক্ষের সকল অনলাইন কাগজপত্র সরবরাহ করতে প্রাথমিকভাবে সক্ষম হন।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে