চুয়াডাঙ্গার বেশিরভাগ সরকারি বাসভবন বসবাসের অযোগ্য

প্রকাশিত: ১৭-১০-২০২১, সময়: ০৮:২৫ |
Share This

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার বেশিরভাগ সরকারি বাসভবন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই ভবনগুলোতে বসবাস করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জানা গেছে, পরিত্যক্ত ঘোষণা না হওয়ায় অর্ধশতাধিক বছর আগে নির্মাণ এসব কোয়ার্টারেই চলছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস।সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। মেঝে এবং সিঁড়িরও একই অবস্থা। দরজা-জানালার বেশিরভাগই ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলে ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিছু ভবন সম্পূর্ণ খালি রয়েছে। এসব ভবনের দেয়াল ও ছাদে শ্যাওলা জমেছে। আশপাশ আগাছায় ভরে গেছে।জেলা শহরে বসবাসের অযোগ্য সবচেয়ে বেশি কোয়ার্টার রয়েছে পানি উন্নয়ন বোডের্র। প্রথম থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত সবার জন্য আলাদা আলাদা মোট ৩৫টি কোয়ার্টার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩৪টিই একেবারে বসবাসের অযোগ্য। এ কারণে ৩৪টি কোয়ার্টারই খালি রয়েছে। মাত্র একটি কোয়ার্টার বসবাসের যোগ্য হলেও বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে।জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, ৩৫টি কোয়ার্টারের মধ্যে ৩৪টি বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় কেউ বসবাস করেন না। এরই মধ্যে ২০টি কোয়ার্টার পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এসব ভবন ভেঙে ফেলতে হবে। এজন্য প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন। পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়ে ঢাকায় চিঠি দিয়েছি। তারা অনুমতি দিলে নিলাম ডেকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে যাতে কেউ না থাকে সেটি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৫০টি কোয়ার্টার রয়েছে। রেলওয়ে কলোনির ভবনগুলোর অবস্থাও একবারেই নাজুক। সেখানেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়ার্টারের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। হাসপাতালের প্রথম শ্রেণি অর্থাৎ ডক্টরস কোয়ার্টারে আটটি ইউনিট রয়েছে। ফলে চিকিৎসকরা সেখানে থাকতে চান না।আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) সরকারি বাসভবনটিও বসবাসের অযোগ্য। এ কারণে বাসভবনটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে খালি। তৃতীয় শ্রেণির কোয়ার্টারে ইউনিট সংখ্যা চারটি এবং চতুর্থ শ্রেণির কোয়ার্টারে ছয়টি ইউনিটের অবস্থাও নাজুক। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির নার্সদের জন্য রয়েছে পাঁচটি ডরমিটরি। সেগুলোর অবস্থাও খারাপ।জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের ১০টি সরকারি কোয়ার্টারের মধ্যে তিনটি বসবাসের অযোগ্য। বাকি সাতটি কোনোরকম মেরামত করে বসবাস চলছে।জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে সরকারি আটটি ইউনিট। ইউনিটগুলো বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় ১৫ বছর ধরে খালি পড়ে আছে। এছাড়া সরকারি শিশু পরিবারের তিনটি ও জেলা বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) দুটি কোয়ার্টারও বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় কেউ থাকেন না।গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন শহরে নির্মিত ছয়টি সরকারি আবাসন ভবনের ২২ ইউনিটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সপরিবারে বসবাস করতে দেখা গেছে। জরাজীর্ণ ভবনগুলোতে বসবাসকারীরা জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের কোয়ার্টারের অবস্থা ভালো নয়। এসব ভবনের পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শম্ভু রাম পাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী এক একটি ভবনের মেয়াদ ৫০ বছর দেওয়া থাকে। বেশিরভাগ ভবনেরই মেয়াদ এরই মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে কিছু কোয়ার্টার রয়েছে যেগুলোর অবস্থা কিছুটা ভালো।

উপরে