রামপাল-মোংলার নদ-নদী এখন মৎস্য শূন্য

প্রকাশিত: ০৮-১০-২০২১, সময়: ১৫:১১ |
Share This

মোঃ রেজাউল ইসলাম, রামপাল (বাগেরহাট) : বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় উপজেলা রামপাল ও মোংলার নদ-নদী মৎস্য শূন্য হয়ে পড়েছে । সরকারি ভাবে তদারকির অভাব, অসচেতন তাও অসাধু মৎস্য শিকারীদের কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সুন্দরবনের নদী-খালে বিষপ্রয়োগ, নেট-পাটা, কারেন্টজাল দিয়েনি র্বিচারে রেণুপোনা নিধন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারন, তাপ মাত্রা বৃদ্ধি, কলকার খানা ও মোংলা বন্দরের জাহাজ থেক ফেলা বিষাক্ত বর্জ্য এবং মাছের অভয়াশ্রম তীব্র ভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ার কারণে উপকূলীয় দুই উপজেলা রামপাল এবং মোংলার আন্তঃ নদী এবং খাল মৎস্য শূন্য হয়ে পড়েছে । বিশেষ করে, সুন্দরবন দপ্তর ও মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়হীন তার অভাবে মাছের এভরা মৌসুমে ও নদী-খালের কোথাও মাছপাওয়া যাচ্ছেনা। জানাগেছে, জোয়ার-ভাটা প্রবণ এ দুই উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর নদী, খালপ্লাবনভূমিওজলাভূমিরয়েছে।বর্তমানেএউপজেলায়চাষকৃতওসামুদ্রিকমাছদিয়েআমিষেরচাহিদাপূরনহয়েথাকে। সিংগড়বুনিয়াগ্রামেরবৃদ্ধমুজিবরমোল্লাজানান, ৩০/৪০ বছর আগে আমাগে এই রামপাল গাংগে ও দাউতখালী (দাউদখালী) গাংগে ভরপুর মাছ ছিলো । এ্যান্যেগাংগে কোন মাছ নেই। সারা দিন জাল বাইয়েও কোন মাছ পাইনা। একই কথা বলেন, শ্রীফলতলা গ্রামের কালাম শেখ। তিনিজানান , এ্যাহন সারা দিন নদীতে জাল টাইনে ও একশোটাহার মাছ পাতিচিনা। সংসার চালানো বড় দ্বায় হয়ে পড়িচে। ৫/৬ জনমানষির সংসার। খাইয়ে নাখাইয়ে দিন যাতিচে। ম্যালামানষি মাছ ধরা ছাইড়ে দিয়ে অন্য কাজ করতিচে। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন নদী ও খালে মাছ কমে গেল ? তারা জানান, নেট জাল দিয়ে মাছের ডিম ও পোনা মেরে নষ্ট করে ফেলার কারণে মাছ শেষ হয়ে গেছে । তারা আর ও জানান, একটি বাগদা বাগলদার রেণুপোনা ধরতে গিয়ে শত শত মাছের ডিম ও রেণু পোনা মেরে ফেলছে । এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র মোংলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. নূর আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শিল্প বর্জ্যদুষন, প্লাস্টিক বর্জ্য দুষন, মোংলা বন্দরে তেলের জাহাজ, কয়লার জাহাজ ডুবি, সুন্দর বনে নির্বিচারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, মাছের প্রজনন আধার সংকুচিত হওয়া, প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট করে ফেলা, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে উচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, নদ-নদীর নাব্যতা সংকটে মিষ্টি পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ার কারণে উপকূলীয় এ দুই উপজেলায় আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। লবন ও মিষ্টি পানির সংমিশ্রণে এখানে অনেক প্রজাতির মাছ হতো যা এখন অনেকটা বিলুপ্তির পথে । কথা হয় সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম এর সাথে । তিনি জানান, নদীতে নাব্যতা সংকট । স্রোত নেই, ইলিশ নেই। দেখার কেউ নেই। সুন্দরবনের ৫১ ভাগ বনভূমিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল করা হয়েছে । ওইসব বনে এক শ্রেণীর অসাধু জেলে নির্বিচারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে । বন বিভাগের নজর দারি, তদারকির অভাবে মৎস্য নিধন ঠেকানো যাচ্ছেনা । আর ও ইবিষাক্ত পানির প্রবাহ উপকূলের নদ-নদীতে প্রবেশের কারণে মৎস্যের প্রজনন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ না থাকার কারণে ইলিশ সহ অনেক মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে না । জলবায়ু পরিবর্তন, নেট জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে রেনুপোনা নিধনে মৎস্য শূন্য হওয়ার বড় একটি কারণ। এছাড়া ও নদীর উজান থেকে মিষ্টি পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধুমাত্র বৃষ্টির পানি প্রবাহের উৎস নেই বললে চলে । যে কারণে আধা মিষ্টি, আধা লবন পানির সংমিশ্রণ না থাকায় অনেক প্রজাতির মাছবিলুপ্তির পথে। সমুদ্র সীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা মৎস্য শিকার করছে এমন অভিযোগও শোনা যায়। পূর্বের মত হয় তো মৎস্য ভান্ডার খ্যাত এ সব উপজেলা বা উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য পাওয়া যাবেনা । আমিষের চাহিদা পূরনে তবে যা আছে সেটি সংরক্ষণ করা জরুরী। প্রয়োজনে আইন করে বা বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিষপ্রয়োগ বন্ধ করতে ইহবে। উপকূল রক্ষি বা কোস্টগার্ড এবং বাংলাদেশ নেভীর আরও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। বনবিভাগ ও মৎস্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে মাছের অভয়াশ্রম গুলি সুরক্ষিত করতে হবে, এজন্য কোন আইন করা প্রয়োজন হলে ও সেটি করতে হবে। কোন অবস্থাতে যেন নদীদুষণ না ঘটে এজন্য নজরদারী রাখতে হবে। প্রয়োজনে মৎস্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সমন্বয়সাধন করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে বনবিভাগ কে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন ডক্টর শেখ ফরিদুল। এ ব্যপারে রামপাল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, বিভিন্ন কারণে আমাদের মৎস্য সম্পদ ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। আমিষের চাহিদা পূরনে মৎস্য চাষ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নদী দুষণ বন্ধ, নাব্যতা বৃদ্ধি, প্লাবন ভূমির পানি প্রবাহবৃদ্ধি, মৎস্যের অভয়াশ্রম বৃদ্ধি সহ সকলপ্রকারপ্রতিবন্ধকতামুক্তকরতেহবে।নদীরনব্যতাসৃষ্টিকরতেপারলেপূর্বেরমতইলিশসহসকল প্রকার মৎস্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এ সকল বিষয় বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

রামপালে স্থগিত হওয়া ইউ পি নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেলেন সুলতানা

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : নানান জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্থগিত হওয়া রাজ নগর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নের নৌকা প্রতীক পেলেন সুলতানা পারভীন । বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। রুদ্ধশ্বাসঅপেক্ষারপরবৃহস্পতিবারনৌকারপ্রতীকপাওয়ায়মিশ্রপ্রতিক্রিয়াদেখাগেছে।ত্যাগীওতরুণপ্রজন্মেরউদীয়মানপ্রার্থীদেরঅনেকটাপেছনেফেলেসদ্যপ্রয়াতচেয়ারম্যানসরদারআ. হান্নানডাবলু’রস্ত্রীসুলতানাপারভীনসফলহওয়ায়এলাকায়তারসমর্থকদেরউল্লাসকরতেদেখাগেছে।জানাগেছে, তফসিলঘোষণারপরকরোনারপ্রকোপবৃদ্ধিপাওয়ায়প্রথমধাপেরইউপিনির্বাচনস্থগিতহওয়াঅবস্থায়চেয়ারম্যানপ্রার্থীওচেয়ারম্যানসরদারআ. হান্নানডাবলুকরোনায়আক্রান্তহয়েদুইমাসপূর্বেঢাকারএকটিহাসপাতালেচিকিৎসাধীনঅবস্থায়মৃত্যুবরণকরেন।উল্লেখ, চেয়ারম্যানডাবলু’রমৃত্যুরপরওইইউনিয়নের১২/১৩জনচেয়ারম্যানপ্রার্থীহতেচেয়েআওয়ামীলীগেরদলীয়মনোনয়নেরজন্যআবেদনকরেন।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে