স্ত্রীর ও সৎ ভাইয়ের পরকীয়ার বলি এক সন্তানের জনক বেল্লাল !!

প্রকাশিত: ০৮-১০-২০২১, সময়: ০৪:১৫ |
Share This

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি : মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর ছেলের সাথে পরকীয়ার বলি হলেন স্বামী বেল্লাল সরদার(২৭)নামের এক সন্তানের জনক। ঘটনাটি হল পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলার ১নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামে। বেল্লাল ওই গ্রামের বাসিন্দা জলিল সরদারে ছেলে। স্থানীয়সূত্র এবং বেল্লালের চাচি রানী বেগম জানান ,প্রায় ১৪বছর পূর্বে ভা-ারিয়া পৌর শহরের বাসিন্দা মো. জামালের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে সোনিয়ার সাথে ইসলামিয়া শরিয়া মোতাবেক বেল্লালের সাথে বিবাহ হয়। সে ঘরে মো. ঈসা নামের ৯বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ঈসা স্থানীয় কাপলির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। নিহত বেবল্লা ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাত। বিপত্তি ঘটে সোনিয়ার মা স্বামী জামালের থেকে বিচ্ছেদ হয়ে সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় বিয়ে করে। সেখানে তার ৩টি পুত্রসন্তান রয়েছে। তার মধ্যে মো. রাজু নামের এক সন্তান বৈমাত বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে সৎ বোনের সাথে পরকীয়া জড়িয়ে পরে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনা জানাজানি হলে বেল্লাল ভান্ডারিয়া পৌর শহরের ভুবনেশ্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে প্রায় দের বছর বসবাস করে। সেখানে টানাপোরেনের কারনে পু:নরায় পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস শুরু করে।
এদিকে স্ত্রীর এ ধরনের ঘটনা পরিবার এলাকাবাসির মুখে শোনা ছাড়াও নিজের হাতেনাতে ধরা পড়ায় পরকীয়া প্রেমিক এবং স্ত্রী মিলে গত মঙ্গলবার (৫অক্টোবর) দুপুরের দিকে বেল্লালকে জোড় করে বিষ পান করানোর পরে নিজেরাই ভান্ডারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। তখন ডাক্তাদেরর বলা হয় তার জ্বর,পাতলা পায়খানার রোগী। বিষয়টি ডাক্তাররের সন্দেহ হলে বেল্লালকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার(৭অক্টোবর) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এদিকে স্বামীর মৃত্যুতে পরিবার স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম দেখা গেলেও স্ত্রীর মধ্যে সে রকম কোন অনুভূতি দেখা যায়নি।
এবিষয়ে নিহত বেল্লালের বাবা মো. জলিল সরদার বাদি হয়ে পুত্রবধূ সোনিয়া, তার সৎভাই রাজু এবং শ্বশুর জামালকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করবেন বলে জানান নিহত বেল্লালের চাচি রানী বেগম।
অন্যদিকে রাতে ভা-ারিয়া থানার ওসি মাসুমুর রহমান বিশ্বাস স্ত্রী সোনিয়া বেগম এবং পরকীয়া প্রেমিক সৎভাই রাজুকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এবিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার ওসি মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান,বরিশাল কোতয়ালী থানায় লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাতেই জানাজা নামাজ শেষে বেল্লালের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে