কলীগঞ্জে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে চলছে স্কুল ভবনের নির্মান কাজ

প্রকাশিত: ০২-১০-২০২১, সময়: ১৩:৪৮ |
Share This

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে ১৩ লাখ টাকা ব্যায়ে ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটিতে অতি নিন্মমানের ইট, বালুসহ নির্মান সামগ্রী ব্যাবহার করা হচ্ছে। নির্মানাধিন ভবনটির ব্যায় মুল্য বা কিভাবে করা হবে তাও জানেন না বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। আর নির্মান কাজের সাইনবোর্ড না ঝুলিয়েই ঠিকাদার তার ইচ্ছামাফিক কাজ করে চলেছেন। যে কারনে কোন তদারকি ছাড়াই এভাবে নির্মান শেষ হলে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য ওই ভবনটি ব্যাবহারে ঝুঁকি থেকেই যাবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিডিবি গণস্বাস্থ্য প্যাকেজে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ১ কোটি ২৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৮৭৭ টাকা ব্যায়ে সাতটি কাজের বরাদ্ধ হয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের ডুুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩ লক্ষ টাকার একটি দুই তলা বিশিষ্ট শৌচাগার ভবনের কাজটি চলমান। কাজটি বরাদ্ধ পেয়েছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম। কিন্তু এ কাজের সাব ঠিকাদার হিসাবে নির্মান কাজটি করছেন আব্দুস সালাম নামে জনৈক্য এক ঠিকাদার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি একই টেন্ডারের তত্বিপুর স্কুলের কাজে নিন্মমানের ইট খোয়া ব্যাবহার করতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন। কিন্তু সেই স্থানের ইট খোয়া তুলে এনেই তিনি আবার ডুমুরতলা বিদ্যালয়ের কাজ শুরু করেন। এ নিন্মমানের সামগ্রী ব্যাবহার করা দেখেই স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ উঠে। এমন বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নির্মান কাজে নিম্নমানের ইট বালি খোয়া ব্যাবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও সেখানে ঝুলানো হয়নি কোন সাইনবোর্ড। সে কারনে লোহার রড ব্যাবহারের রয়েছে লুকোচুরি। বর্তমানে এ কাজটি চলমান থাকলেও সেখানে জনস্বাস্থ্য বা বিদ্যালয়ের কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তবে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে স্কুলের পাশর্^বতী বাসিন্দা রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি এগিয়ে এসে নিন্মমানের ইটের নমুনা তুলে ধরেও দেখান। এ সময় ঘটনাস্থলে নির্মান কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা জানায়, ঠিকাদার ও হেড মিস্ত্রির নির্দ্দেশনা মোতাবেকই কাজ চলছে । এর বেশি কিছু আমরা জানিনা বলে তারা জানান।এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান,জানান, একদিন ঠিকাদার এসে আমার কাছে শুধুমাত্র কাজের জায়গাটা দেখিয়ে দিতে বলে। তবে, কত টাকার কাজ বা কোন সিডিউল আমার বিদ্যালয়ে দেয়নি। যে কারনে আমি আপনাদের কোন তথ্যই দিতে পারব না।স্কুল কমিটির সভাপতি আনছার আলী জানান, প্রধান শিক্ষকের মুখে শুনেছি, স্কুলের শৌচাগার নির্মান শুরু করেছে এক ঠিকাদার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা জনস্বাস্থ্য অফিস থেকে আমাকে কিছুই জানায় নি। সে কারনে ওই কাজের দেখভাল বা তদারকি করতে পারবো কিনা তা আমারও জানা নেই। কালীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে অফিসের কর্মকর্তা জেসমিন আরা জানান, কাজটির বরাদ্ধ পেয়েছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম। তবে তার পরিবর্তে কাজটি কে করছেন সেটা আমার দেখার বিষয় নহে। কাজের ইট খোয়া নিন্মমানের বিষয়ে বলেন, ঠিকাদার অনেক কষ্ট করে অন্য একটি ঝামেলাপূর্ণ কাজের সাইট থেকে ওই ইট খোয়া তুলে এনেছে। যে কারনে ইট খোয়া একটু কমা দেখা গেলেও তা মানসন্মত। তবে, এ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ উঠছে শুনে তিনি তার উত্তরে এলাকাবাসী পারলে ইট খোয়া তুলে নিয়ে যেতে পারেন বলে জানান তিনি। আর নির্মান কাজের স্থানে সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিকাদার কি ৭ টি কাজের স্থানেই সাইনবোর্ড ঝুলাবে ? যে কোন একটি স্থানে সাইনবোর্ড দিলেই হবে। তারপরও ঠিকাদারকে বলবেন বলে তিনি অনেকটা এড়িয়ে যান।এ বিষয়ে কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, কাজে কোন অনিয়ম করা হচ্ছে না। আর এ কাজের ইস্টিমেট বা কোন কিছু জানতে হলে আপনারা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা জেসমিন আরার
সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বানু মুঠো ফোনে জানান, অনিয়মের কথা আমাকে কেউ জানায়নি। কাজ গুলো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের হলেও অর্থ আমাদের দপ্তরের। এ বিষয়ে অবশ্যই
খোঁজ নিব।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে