কলাপাড়ায় সার সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত: ১৮-০৯-২০২১, সময়: ১৯:২৬ |
Share This

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ চলতি আমন মৌসুমে সার সরবরাহ না থাকায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় সার ডিলারদের দাবি সরবারহে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। দিনের পর দিন সারের গুদাম ঘাটে ট্রাক কিংবা ট্রলার রেখেও মিলছেনা তাদের কাঙ্খিত পরিমান সার। এর ফলে প্রতিদিন লোকশান গুনতে হচ্ছে তাদের। আর সার না পেয়ে প্রান্তিক কৃষকরা পরেছে দুশ্চিন্তায়।
কলাপাড়া কৃষি আফিস ও সার ডিলার মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টম্বর মাসে এ উপজেলায় সরকারীভাবে ১২’শ ২৪ মেট্রিক টন সার পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪০ টন সার বরাদ্দ পেয়েছেন ডিলাররা।
এদিকে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সার পৌছাতে বস্তা প্রতি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া ৩৫ টাকা। আগে পটুয়াখালীতে সারের গুদাম ছিল। এখন সেই গুদাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিলারদের বরিশাল থেকে সার আনতে হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে বরাদ্দ পেতে টাকা জমা দেয়ার পরেও সঠিক সময়ে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন অনেক বিসিআইসি ডিলাররা।
কৃষক মাসুম বিল্লা জানান, তিনি প্রায় নয় একর জমিতে আমনের চাষ করেছেন। কিন্তু গত একমাস ধরে সারে ডিলারদেও কাছে ধর্না দিয়েও তিনি সার পায়নি। আপর এক কৃষক আব্দুল হক বলেন, দোকানে গিয়েও সার পচ্ছিনা, ফসলে আবস্থাও তেমন ভাল না। আর ক্ষেতে সার দেওয়ারও সময় চলে যাচ্ছে।
লতাচাপলী ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার রুহুল আমিন জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর টাকা জমা দিলেও বরিশাল থেকে আমরা এখনও সার পাইনি। কারণ হিসেবে তিনি জানান পটুয়াখালী থেকে সার গোডাউন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই আমরা এমন বিপদে পরেছি।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসেসিয়োশন কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পৌর শহরের বিসিআইসি ডিলার খাঁন ট্রেডার্সের সত্তাধিকারী মো.জাকির হোসেন জানান, সঠিক সময় সার পাচ্ছিনা। এমনকি দিনের পর দিন বরিশাল ঘাটে এসে থাকতে হচ্ছে আমাদের। এর ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সার সরবরাহ প্রতিবন্ধকতায় প্রান্তিক চাষিসহ সাব ডিলারদের মাঝেও এর প্রভাব পরেছে।
পটুয়াখালী শাখার বাফার ব্যবস্থাপক (বানিজ্যিক) মশিউর ইসলাম জানান, লাউকাঠি গুদাম ঘরটির ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গুদাম ক্লোজ করা হয়েছে। তবে উর্ধ্বতন মহলে সিন্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে নতুন করে গুদাম ঘর স্থাপন করা হবে। সেই লক্ষে জমি অধিগ্রহনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে এ উপজেলায় ১২’শ ২৪ মেট্রিকটন সার পাওয়ার কথা থকালেও আমরা এখনও তা পাইনি। এ বিষয়ে আমরা উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।
বরিশাল বাফার গুদাম ইনচার্জ আবদুর রহিম খন্দকার বলেন,পটুয়াখালী গুদাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরিশাল থেকে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়ায় শ্রমিক ম্যানেজে আমাদের একটু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিলো। তার পরেও সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা প্রতিদিন ৫’শ মেট্রিকটন সার সরবরাহ করছি। আশা করছি কলাপাড়া উপজেলায় প্রতি মাসের সার পৌছে দিতে পারবো। আমরা সেই লক্ষে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।

আন্তর্জাতিক উপকূল পরিচ্ছন্নতা দিবস উপলক্ষে:
কুয়াকাটায় সৈকতে পারিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকত পারিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উপকূল পরিচ্ছন্নতা দিবস উপলক্ষে শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় মৎস্য অধিদপ্তর পটুয়াখালী ও ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ এর আয়োজন করে। সাগর থেকে ভেসে আসা সৈকতে প্রায় এক কিলোমিটার প্লাস্টিক, ছেড়া জাল, পলিথিন ও নানারকম আর্বজনা অপসারন করা হয়েছে। এর আগে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্যটকসহ স্থানীয় ৪০ জন অংশগ্রন করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।
এসময় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা পারভীন সীমা, ইউএস এ আইডি ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ ইকোফিস-২ সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি, সহকারি গবেষক মো.বখতিয়ার রহমান, কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের পরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ গনমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ও পর্যটকরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএস এ আইডি ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ ইকোফিস-২ সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, সাগর পররিচ্ছন্ন থাকলে বাড়বে জীববৈচিত্র্য ,বাঁচবে সাগরের প্রানিকূল। নদী ও সাগরকে প্লাস্টিক, ছেড়া জাল, পলিথিন, রাসায়নিক দ্রব্যাদিসহ নানারকম আর্বজনা মুক্ত করতে সদা সচেষ্ট। আন্তর্জাতিক উপকূল পরিচ্ছন্নতা দিবস-২০২১ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে।

কলাপাড়ায় যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সুমন খান (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ী উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে। সে ওই গ্রামের মো.মজিদ খানের ছেলে। এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি ইউ,ডি মামলা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন নেশাগ্রস্থ যুবক। দীর্ঘদিন ধরে সে বাড়ীতে আসবাবপত্র ভাংচুর সহ পরিবারের লোকজনকে মারধর করতো। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে প্রতিবেশী এক দোকানের সামনে উপুর হওয়া অবস্থায় দেখে তার চাচা লতিফ খান সহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

কলাপাড়া স্বাস্থ্যকমপ্লেক্্েরর চিকিৎসক ডা. কামরুন্নাহার মিলি জানান, সুমনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে তার মুখমন্ডলে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল।
সুমনের পিতা মো.মজিদ খান জানান, সুমন দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্থ ছিল। প্রায়ই সে বাসায় আসবাবপত্র ভাংচুর করতো, এমনকি পরিবারের লোকজনদের মারধর করতো।কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো.আসাদুর রহমান জানান, সুমনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়না তদন্তের রির্পোটের পর আসল ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে