কেশবপুরে তিন দিনে ২২ শিশুসহ ৩৪ জন কুকুরের কামড়ে আহত

প্রকাশিত: ১৭-০৯-২০২১, সময়: ১২:০৬ |
Share This

এম. আব্দুল করিম কেশবপুর থেকে: যশোরের কেশবপুর উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় গত পাঁচ দিনে কুকুরের কামড়ের শিকার ২২ শিশুসহ ৩৪ জন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন মানুষ সহ গরু ছাগল কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ায় উপজেলা ব্যাপী মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
হঠাৎ কুকুরের আক্রমন বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। শিশুরা কুকুরের কামড়ে রক্তাক্ত জখম হওয়ায় অভিভাকরাও উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন। কুকুরের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে অভিভাকরাও হাতে লাঠি নিয়ে যাতায়াত করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের ভেতর ৫ জনের অবস্থা গুরুত্বর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকাটি গ্রামের তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সালমা (৩৫), হরিশপুর গ্রামের গোলাম শেখের ছেলে আব্দুল খলিল শেখ (৫৪), বেগমপুর গ্রামের আমিনুরের ছেলে তাহসিন (৭৬), সাইফুল্লাহর ছেলে আলামিন (৮), হোসেন আলীর ছেলে মোজাহিদ (৫), কড়িয়াখালী গ্রামের করিমের ছেলে আয়ূব আলী (৩৫), কমলাপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী জেবুনেছা (৫০), শিকারপুর গ্রামের আলমগীরের ছেলে ইসরাফিল (১১), ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের রাশেদ আলীর ছেলে আবু মুসা (৩), রসুলপুর গ্রামের ছামসুর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া (৪০), আব্দুস ছাত্তারের ছেলে আব্দুস সামাদ (৬০), নছিম মোড়লের ছেলে হাবিবুর (৩৫), নতুন মূলগ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আশিকুর রহমান (৭) আলতাপোল গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ইমামুল হাসান (৯), কর্ন্দর্পপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে রিফাত (৭), মুলগ্রামের সনজিৎ মন্ডলের ছেলে রাহুল মন্ডল (৭), কড়িয়াখালি গ্রামের সবুজ হোসেনের ছেলে জিয়াদ (১১), হাজরাকাটি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রাজিবুল হোসেনকে (৫), শাহাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬), কেশবপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল (১০), চালুয়াহাটি গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে তাসকিন (৬), সারুটিয়া গ্রামের খাইরুল মোল্লার ছেলে রিয়াদ (৫), পাচুড়িয়া গ্রামের মোশারফ হোসের ছেলে তানজিম (৬), পাঁচবাকাবর্শী গ্রামের ওয়াদুদ হোসেনের ছেলে ইসহাক (১০), ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মতির ছেলে আলিফ হাসান (১০), পাঁচবাকাবর্শী গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে সাকিবুল (৭), রতনদিয়া গ্রামের আবু সাইদের ছেলে ফয়সাল (১১), কায়েমখোলা গ্রামের আব্বাস গাজীর ছেলে আব্দুল গফুল, ভান্ডারখোলা গ্রামের সামছুর মোড়লের ছেলে হুসাইন (৩), ফতেপুর গ্রামের হুসাইনের স্ত্রী রিজিয়া খাতুন (৭০), নরনিয়া গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে সিয়াম (৪৬), বানাইডাঙ্গা গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে মারিয়া (১২), আগরহাটি গ্রামের আল মামুনের ছেলে জমি (৫), ভরতভায়না গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে জব্বার শেখ (৪৫), আটঘরা গ্রামের শাহাজানের স্ত্রী ফজিলা (৩৫) কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিশেধকের অভাব নেই। কুকুরের কামড়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, এখন কুকুরের প্রজনন মৌসুম চলছে, সে জন্য কুকুরগুলো এখন অত্যান্ত ক্ষিপ্র ও পাগলা প্রকৃতির হয়ে পড়েছে। ফলে কুকুরকে উত্যক্ত না করে সতর্কভাবে চলাচলের জন্য সকলের প্রতি আহŸান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এসব ক্ষিপ্র প্রকৃতির কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উপজেলা প্রাণী স¤পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগের টিকা মজুদ রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে