শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত বাগেরহাটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ১৩-০৯-২০২১, সময়: ০৭:৪৭ |
Share This

সৈয়দ শওকত হোসেন,বাগেরহাট প্রতিনিধি : দীর্ঘ দেড় বছর পর আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে বাগেরহাটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রথম দিন বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস। করোনার কারণে গৃহবন্দী শিক্ষার্থীরা প্রিয় বিদ্যাপীঠে এসে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের আগে মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। পৌর শহরসহ গ্রামের কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে আসা এসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ কর্মচারীদের মাঝে এক উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
অনেক দিন পরে স্কুলে এসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি, কথা বলছি। এত দিনের না-বলা কত কথা জমে ছিল আমাদের। এত ভালো লাগছে যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে করোনার আগে আমরা যেমন একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পেরেছি। এখন তা পারছি না। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস হচ্ছে। তারপরও যে ক্লাস হচ্ছে, তাতেই আমরা খুশি। এভাবেই কথাগুলো বলছিল বাগেরহাট সরকারি উচ্চ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজান।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইম আহম্মেদ বলে, খুব ভোরে আমার ঘুম ভেঙে গেছে। রাতেই রেডি করে রাখা স্কুল ব্যাগ ও বই নিয়ে আম্মুর সঙ্গে স্কুলে এসেছি। অনেক দিন পর স্কুলে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। স্যাররাও আমাদের অনেক আদর করেছেন। শুধু আনিকা বা ইমা নয়। এমন খুশির ঝলক ছিল জেলার সব শিক্ষার্থীর মুখে।
বিদ্যালয়গুলোর আয়া ও দপ্তরিদের মধ্যেও ছিল শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। বালিকা বিদ্যালয়ে কথা হয় আয়া শিল্পি আক্তারের সঙ্গে। পরিচ্ছন্ন ঘণ্টাটি বারবার মুছছেন, হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, আবার একা একা হাসছেনও। জিজ্ঞেস করতে একটু লজ্জা পেয়েই বললেন, কতদিন এই ঘণ্টার শব্দ কানে আসেনি। বাচ্চাদের ছোটাছুটি চোখে পড়েনি। এরাই তো আমার পরিবার।
বিদ্যালয়ের বাইরে রকমারি খাবারের পসরা নিয়ে বসে থাকা শিশুদের ঝালমুড়ি মামার মধ্যেও ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। বাবুল বলেন, দেড়টা বছর বাচ্চাদের খাওয়াই না। তাই বেশি বেশি করেই দিচ্ছি আজ।
৫৪৪ দিন পরে স্কুলে আসতে পেরে খুশি বাগেরহাটের শিক্ষার্থীরা। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসেছেন তারা। প্রতিটি স্কুলে উচ্ছ্বসিত ছিল শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পেরে খুশি হয়েছেন অভিভাবকরাও। শিক্ষকরাও খুশি শিক্ষার্থীদের পেয়ে। নির্ধারিত সময় শেষে বাড়ি ফিরেছেন তারা।
জেলার বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ ও হ্যান্ড স্যানিটাইজের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। অন্যান্য সময়ের মতো একে অপরের কাঁধে হাত অথবা কোলাকুলির দৃশ্য না থাকলেও শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল অন্যরকম এক আনন্দ অনুভূতির ছোঁয়া।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে