ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করা যাবে না : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

প্রকাশিত: ০২-০৯-২০২১, সময়: ১৪:৪৭ |
Share This

আওরঙ্গজেব কামাল : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন আইন অনুযায়ী ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল আমাদের এখানে সম্প্রচার করতে পারে না। এছাড়া ক্যাবল অপারেটররা অনেক সময় সিনেমা দেখায়, বিজ্ঞাপন দেখায়, অনুষ্ঠান দেখায়। এগুলো আইনের ব্যত্যয় আমরা সেগুলোর ব্যাপারেও এনফোর্সমেন্টে যাব। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ক্লিন ফিড ছাড়া (বিজ্ঞাপনমুক্ত) বিদেশি কোনো টিভি চ্যানেল দেশে সম্প্রচার চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন । বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাটকো, বিদেশি চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউটর, আকাশ ডিটিএইচ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে হাছান মাহমুদ এই তথ্য জানিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, দেশে যেসব বিদেশি চ্যানেল আছে, আইন অনুযায়ী তারা ক্লিন ফিড চালাতে বাধ্য। কিন্তু তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এসব চ্যানেল ক্লিন ফিড করে পাঠাচ্ছে না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ৩০ সেপ্টেম্বরের পরে দেশে কোনো অবস্থাতেই ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেলকে চালাতে দিতে পারি না। আইন অনুযায়ী, ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল আমাদের এখানে সম্প্রচার করতে পারে না। হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের কেবল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম ডিজিটালাইজড করা হবে। সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রাহকদের অবহিত করতে একটি পরিপত্র জারি করা হবে। ৩০ নভেম্বরের পরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে অ্যানালগ সিস্টেম আর কাজ করবে না। ডিজিটাল সেটআপ বক্সের মাধ্যমেই সম্প্রচারটা হবে। মন্ত্রী বলেন, এখন ডিজিটাল প্লার্টফর্ম রেডি, কিন্তু দর্শকদের যদি সেটআপ বক্স দেওয়া না হয় এবং তারা যদি না নেন তবে সেটা বাস্তবায়ন করা কঠিন। সেজন্য আমরা পরিপত্র জারি করব। তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় ও মেট্রোপলিটন শহর ছাড়াও কুমিল্লা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজারকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইড করতে হবে। পুরো দেশের বিষয়টি নভেম্বরে বসে ঠিক করব কীভাবে করা যায়।ক্লিন ফিড চলছে কিনা সেটি নিয়ে আমরা সারা দেশে এনফোর্সমেন্টে যাব উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পর পর দুই বছর সনদ নবায়ন না করায় ১২০০ ক্যাবল অপারেটিং ও ফিড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এক বছর নবায়ন না করলেই এসব সনদ বাতিল হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা করিনি। যাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তাদের কেউ কেউ এখনো কাজ করছেন।ক্যাবল অপারেটিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় এলাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায়ই এলাকা নিয়ে নানা সময় ঝামেলা হয়, অনেক সময় বড় ঝামেলা হয়, খুন-খারাবির মতো ঘটনাও বিভিন্ন সময় ঘটেছে। সেজন্য স্ট্রিকলি আজকে সভা থেকে বলে দিচ্ছি—একজনের এলাকায় আরেকজন কখনোই যেতে পারবে না এবং সেটার জন্য এনফোর্সমেন্ট করব। মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট সংযোগ যারা দিচ্ছে, সেসব সার্ভিস প্রোভাইডাররা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিও স্ট্রিমিং করে টেলিভিশনে দেখাচ্ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে অনুমোদন ছাড়া অনেক চ্যানেল দেখানো হচ্ছে, এটা তারা কোনোভাবেই করতে পারে না। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে আইপি টিভি দেখানো হচ্ছে। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, একজনের ডোমেইনের মধ্যে আরেকজন প্রবেশ করছে। এটি নিয়ে আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়, টেলিকম বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের সঙ্গে অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করবো। দেশে দুটি ডিটিএইচ লাইসেন্স দেওয়া আছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুটির মধ্যে একটি আকাশ, আরেকটি বিটিভিকে। বিটিভি এখনো কার্যক্রমে যায়নি, খুব সহসা যাবে। আমরা দেখছি টাটা স্কাইয়ের নামে অনেক জায়গায় ডিটিএইচ সেবা বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হচ্ছিলো, সেটির বিরুদ্ধে আমরা এনফোর্সমেন্ট করেছিলাম, অনেক কমেছে। ইদানীংকালে চীন থেকে সেটআপ বক্স এনে অন্যদের ডিস লাগিয়ে সেখান থেকে ডিটিএইচ সেবা নেওয়া হচ্ছে, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা এনফোর্সমেন্ট করব। এগুলোর কিন্তু কঠিন শাস্তি হবে। আমি আশা করব আজকের পর থেকে সবাই এগুলো বন্ধ করবেন। মন্ত্রী বলেন, আরো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডিটিএইচ লাইসেন্স পেতে পারে। যখন ক্যাবল অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইড হবে তখন যে কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের পক্ষে পে চ্যানেল বা আধা পে চ্যানেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সম্ভব হবে। সরকার প্রতি বছর অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা করে রাজস্ব হারাচ্ছে। ক্যাবল অপারেটর হিসেবে যারা কাজ করছে তারাও কিন্তু তাদের সঠিক পাওনাটা পায় না।

উপরে