ভান্ডারিয়া করোনার শনাক্তের হার নিন্মমুখী; টিকা নিতে আগ্রহীদের ভিড়

প্রকাশিত: ২৬-০৮-২০২১, সময়: ১৭:২৬ |
Share This

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমনের হার নিন্মমুখী। উপজেলা হাসপাতালে গত ১০দিন থেকে বৃহস্পতিবার (২৬আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের রিপোর্টে প্রতিদিন ১৫/২০জনের মধ্যে করোনা শনাক্তের হার গড়ে পতিদিন ২থেকে ৩জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। যা গত ১৫/২০দিন পূর্বে ছিল গড়ে প্রতিদিন ২৫/৩০জন। টিকাগ্রহনকারীরা সুফল পাওয়ায় পরিবার এবং স্বজনদের টিকা নিতে প্রতিদিন হাসপাতালে লক্ষ্যণীয় ভিড় বাড়ছে। আর টিকা নিতে আসা এ সকল মানুষজন স্ব -উদ্যোগেই বাহির থেকে রেজিস্টেশন করেছেন। অন্যদিকে পৌরসভা সহ উপজেলার বাকি ছয়টি ইউনিয়নে গত ৭আগস্ট গণটিকার প্রথম ডোজ নেয়া ৪হাজার ৭৪৮ জনকে আগামী ৭সেপ্টেম্বর গণটিকার দ্বিতিয় ডোজ দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২০সালের ৮মার্চ থেকে বৈশ্বিক উচ্চ পর্যায়ের করোনা সংক্রমন ভাইরাস (কোভিড-’১৯) মহামারি আকার রূপ নেয়ার পর ২০২১সালের ফেব্রæয়ারি মাসে সরকার সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিনেশন (টিকা) প্রদানের কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। ঐ সময়ে পিরোজপুর জেলা সিভিলসার্জন কার্যালয় থেকে প্রথমে এ উপজেলায় অক্সফোর্ডের অ্যাস্টাজেনেফার দুই বারে ৮হাজার ১শডোজ ভ্যাকসিন পায়। তা থেকে ৪হাজার ২১১জনকে প্রথম ডোজ দেয়া হয়। তখন প্রাপ্ত টিকা থেকে নির্ধারিত সময়ের পর দ্বিতিয় ডোজ দেয়া হয় ৩হাজার ৬৯৭জনকে। সেখানে বাকি থাকে ৫১৪জন। ঐ কোম্পাণীর টিকা মজুদ না থাকায় বাকি থেকে যেতে পারে ৫১১জন। তবে সে বিষয়ে আশাহত না কর্তৃপক্ষ। কারন দেশে ফের অক্সফোর্ডের অ্যাস্টাজেনেফার ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভবনাও রয়েছে তাদের।
এদিকে পিরোজপুর জেলা সিভিলসার্জন কার্যালয় থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসে এ হাসপাতালে দ্বিতিয় দফায় ১৭হাজার ৩শডোজ চায়না কোম্পাণী সিনেফার্মার ভেরিসেল টিকা পায়। জুলাই মাসের ১৩তারিখ থেকে শুরু হয় নতুন করে টিকা দান কর্মসূচি। এরই মধ্যে সরকার গণটিকা প্রদানের কার্যক্রম শুরু করলে গত৭আগস্ট পৌরসভা সহ উপজেলার বাকি ছয়টি ইউনিয়নে এক যোগে ৪হাজার ৭৪৮জনকে গণটিকা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ নিয়ে দ্বিতিয় দফায় সিনেফার্মার ভেরিসেল টিকার প্রথম ডোজ (গণটিকাসহ) ১১হাজার ৭২০জনকে দেয়া হয়। দ্বিতিয় দফার প্রথম ডোজ টিকা গ্রহনকারীদের দ্বিতিয় ডোজ গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন ৬শজনকে সহ দেয়া হয় মোট ২হাজার২৫২জনকে এবং বর্তমানে মজুদ আছে ৩হাজার ৩২ ডোজ। যা দ্বিতিয় দফার প্রথম ডোজ গ্রহনকারীদের দ্বিতিয় ডোজ সম্পূর্ণ হবে। কিন্তুু প্রথম দফার অক্সফোর্ডের অ্যাস্টাজেনেফার দ্বিতিয় ডোজে বাদ পরা ৫১১জনের জন্য নতুন করে না পাঠালে হয়ত এরা বাকি থেকে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভাÐারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ননী গোপাল রায় জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির বিশেষ নজরদারি, উপজেলা প্রসাশন ,উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার ,ম্যাডিক্যাল টিমের সদস্যগণ এর আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং গণসচেতনতার ফলে বর্তমানে করোনা শনাক্তের হার অনেক কমে আসছে। ঐ কর্মকর্তা আরো জানান,দ্বিতিয় দফায় সিনেফার্মার ভেরিসেল টিকার প্রথম ডোজ গ্রহনকারীদের দ্বিতিয় ডোজ দেয়ার মত টিকা আমাদের মজুদ রয়েছে। তবে প্রথম দফার দ্বিতিয় ডোজে বাদ পরা ৫১১জনের জন্য হয়ত আমরা আবার টিকা পেতে পারি। পেলে বাকিদের দেয়া হবে। তা ছাড়া টিকা গ্রহনের জন্য বর্তমানে এ উপজেলায় নতুন করে টিকা গ্রহনে আগ্রহী রেজিস্ট্রেশনকৃতদের সংখ্যা ২৭হাজার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে