ব্যক্তি স্বার্থে তালা প্রেসক্লাবের জায়গা উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র : জনমনে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ২২-০৮-২০২১, সময়: ১৩:৫৯ |
Share This

তালা সাতক্ষীরা : ব্যক্তিস্বার্থ হাচিলের উদ্দেশ্যে তালা প্রেসক্লাবের নির্মিত অডিটোরিয়াম ও পত্রিকা অফিসের জায়গা উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের পায়তারা চলছে। সংশ্লিষ্ঠ জায়গাটি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মহদ্বয়ের নামে রের্কড থাকলেও দখল সুত্র দেখানো হয়েছে তালা প্রেসক্লাবের নামে। ১৯৮৩ সালে ক্লাবটি নির্মিত হয়ে এলাকার সাধারণ ও অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে আজও সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ইসলামকাটি গ্রামের মৃত নছিম উদ্দীন শেখের ছেলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম ও তার ভাই শেখ আব্দুল আজিজ (মুহুরী) মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে ভুল বুঝিয়ে প্রেসক্লাবের দখলীয় সম্পত্তি উল্লেখ না করে কতিপয় ভুয়া ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে একটি মিথ্যা আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) অফিসের সার্ভেয়ার ইমদাদুল ইসলাম তারেক উক্ত স্থানটি পরিদর্শন করেন এবং তিনিও তালা প্রেসক্লাবের দখলীয় জায়গা উল্লেখ না করে উৎকোচের স্বার্থে অপরিপক্ষ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। সার্ভেয়ারের অপরিপক্ষ প্রতিবেদনের ফলে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মোঃ আক্তার হোসেন স্বাক্ষরিত উচ্ছেদের একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তালার সুধী সমাজ ও সর্বস্তরের জনমনে ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে তালা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্ঠা সাংবাদিক এম এ হাকিম জানান, তালার কর্তব্যরত সাংবাদিকদের বসার জায়গা না থাকায় তৎকালিন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট আবেদন করলে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জায়গাটি দেওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন। তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাসার জোয়াদ্দার এর সহায়তায় ১৯৮৩ সালে ০১নং খতিয়ানে ১৩০ দাগের ০.৩৮৭ একর জমিতে প্রেসক্লাবের ক্লাবের ভবনটি নির্মান করা হয়। তালা প্রেসক্লাবে সর্বপ্রথম ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেব তালায় আগমনে প্রেসক্লাবে নগদ ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। এরপর একে এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখ্ত, সাবেক পাটমন্ত্রী হান্নান সাহ, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোস্তাফিজুর, সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক সংসদ সৈয়দ কামাল বখত ছাকি, ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান এবং বর্তমান সংসদ এ্যড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সহ আরো অনেক এমপি মন্ত্রীর পদচারণা ও সরকারি অনুদান তালা প্রেসক্লাবে রয়েছে। এছাড়াও বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরনেরও রয়েছে অনেক অনুদান।
তিনি অরোও জানান, বর্তমান ভবনে সংকৃর্ণ জায়গায় থাকায় প্রেসক্লাবের সংশ্লিষ্ঠ দখলীয় জায়গায় একটি অডিটোরিয়াম ও পত্রিকার অফিসসহ দুইটি দোকানঘর রয়েছে। যেটি তালা মহান্দী সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এখানে জনসাধারণের চলাচলের কোন বাধাবিঘœ সৃষ্টি আজও হয়নি এমনকি কোন দূর্ঘটনাও কখনো ঘটেনি। কিন্তু সম্প্রতি তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ইসলামকাটি গ্রামের মৃত নছিম উদ্দীন শেখের ছেলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম ও তার ভাই যাহার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্তনেই সেই শেখ আব্দুল আজিজ (মুহুরী) মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে ভুল বুঝিয়ে প্রেসক্লাবের দখলীয় সম্পত্তি উল্লেখ না করে কতিপয় ভুয়া ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করে একটি মিথ্যা আবেদন করেন। প্রেসক্লাবের জায়গাটি উচ্ছেদ করে নিজ স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি সরেজমিন তদন্তপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানান তিনি।
সার্ভেয়ার ইমদাদুল ইসলাম তারেক জানান, আবেদনকারি মন্ত্রী পরিষদ সচিব বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত করা হয়েছে। যেটুকু পাওয়া গেছে সেটুকু লেখা হয়েছে। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন সরেজমিন তদন্ত করেছি তখন ঐ জায়গাটি যে তালা প্রেসক্লাবের দখলে সেটি আমি বুঝতে পারিনি পরে বঝতে পেরেছি। এখন আর কিছু করার নেই। কারন আবেদন কারির চাপের কারনে তড়িঘড়ি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে