দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে

প্রকাশিত: ২০-০৮-২০২১, সময়: ০৬:১৩ |
Share This

আওরঙ্গজেব কামাল : আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এই দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। এই দিনে নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আসকারের ভেতর দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি পালন করবেন। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা জোগায়। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আশুরা উপলক্ষে দেয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, কারবালার শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে। আলাদা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানান।
এবার পবিত্র মহররম উপলক্ষে সব ধরনের তাজিয়া মিছিল, শোভাযাত্রা, মিছিল বন্ধ থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছর সরকারি ছুটি থাকে। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় দুটি ছুটিই এক দিনে পড়ে গেছে। মহররম উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো আজ বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে।হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর প্রিয় মুহাররম মাসের রোজা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন এটা কোন দিন যে তোমরা রোজা পালন করছ?
তারা বলল, এটা এমন এক মহান দিবস যেদিন আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরআউনকে তার দলবলসহ ডুবিয়ে মেরেছিলেন। মুসা (আ.) শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। এ কারণে আমরাও রোজা পালন করে থাকি।
এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.) এর অধিকতর ঘনিষ্ঠ ও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রোজা পালন করলেন ও অন্যদেরকে রোজা পালনের নির্দেশ দিলেন।
মহানবী (সা.) তাঁর ইন্তেকারের পূর্বে ইয়াহুদিদের বিপরীত পন্থা অনুসরণের লক্ষে ১০ মহররমের পূর্বে ৯ মহররম আরো একদিন রোজা রাখার আশা ব্যক্ত করেন। (সহীহ মুসলিম, হা: ১১৩৪) তাই কেউ যদি আশুরায়ে মহররমের উদ্দেশ্যে রোজা পালন করতে চায় তাহলে তাকে দু’টি রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ-৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম। ১০ মহররম শুধু একটি রোজা পালন করা ঠিক হবে না।
এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। এ দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে