দৌলতপুরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে প্রবাসীর স্ত্রী ও পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার হুমকী

প্রকাশিত: ১৩-০৮-২০২১, সময়: ১৪:৫৮ |
Share This

মুকুল খসরু, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা হলুদবাড়িয়া মাষ্টারপাড়া গ্রামে গত ৮ই আগস্ট রবিবার দুপুরে এলাকার ত্রাস দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী আলিরাজ সহ তার দল কর্তৃক কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে আনার চেষ্টা ও মারধর করার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় ৬জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে সেই মামলায় ৪জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে গত সোমবার তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারো ঐ প্রবাসীর স্ত্রী ও পরিবারকে বিভিন্ন হুমকী দিয়ে আসছিলো। গতকাল ঐ প্রবাসীর স্ত্রী মুঠোফোনে জানান, রাজিব, আলিরাজ বাহিনী বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে তাদের আত্বীয় স্বজনদের নিকট মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকী দিচ্ছে। তা না হলে এই মাষ্টারপাড়া থেকে তাদের কে উচ্ছেদ করা হবে । এই পরিবারটি এখনো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার নির্দেশেই রাজিব, আলিরাজ বাহিনী এই প্রস্তাব দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আলিরাজ, সুইট, রবিউল ও রাজিব ও তার বাহিনীর লোকজন আল্লারগর্দা হলুদবাড়িয়া মাষ্টারপাড়া ঐ প্রবাসীর স্ত্রীর বাবার বাড়ির সামনে রাতেই মহড়া দেয়। পরস্পর হুমকী দেয় মামলা না তুলে নিলে এখান থেকে চলে যেতে হবে। ভয়ে ও আতঙ্কে প্রবাসীর স্ত্রী, মা, বাবা বাড়ি হতে বের হতে পারছে না।
প্রবাসীর স্ত্রীর মা জানান, দুই বছর আগে থেকেই রাজিব আমার মেয়ের পিছনে লেগেছে। আমার নাতিন স্কুলে গেলে সেসময় আমার মেয়ে সাথে গেলে রাজিব তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকী দিতো। ঘটনার দিন রাতে আমার বাড়ি রাত ২টার সময় বাইরের দুইটি দরজা লক করে পিছনের প্রাচীর দিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে আমার স্বামী লাইট মারলে রাজিব পালিয়ে যায়। রবিবার ভোর বেলা আমি রাজিবের চাচা আজিজুল মেম্বারের নিকট এই বিচার দিতে গেলে তিনি আমাকে টোকন চৌধুরীর নিকট যেতে বলেন। আমি টোকন চৌধুরীর কাছে যায়নি, কারণ রাজিব টোকন চৌধুরীর লোক। এরই জের ধরে ঐ দিন আমার বাড়িতে হামলা চালায় ও আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার ভাই আলিরাজ ও তার বাহিনীর লোকজন অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাকে মারধর করে। শুধু তাই নয় আমাদের গায়ে কলঙ্ক দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অপবাদ ছড়াচ্ছে। আলিরাজকে ইতিপূর্বে সেনাবাহিনী তার বাড়িতে এসে পিটিয়ে মারধর করে ও র‌্যাব একবার তুলে নিয়ে যায়। এদের বিরুদ্ধে এলাকায় রয়েছে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ।
প্রবাসীর স্ত্রী জানান, রাজিব দীর্ঘদিন আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, আমার মা বাবা কেও বিভিন্ন হুমকী ধামকি দিয়ে আসছিলো। রাজিবের অত্যাচারে বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি গেলেও সেখানে গিয়েও রাজিব ও আলিরাজ বাহিনী মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আমার ভাসুর ফজলুর রহমানের নিকট মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বলেছে, আমার সাথে রাজিবের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও আমার বাবার কাছে দুই লক্ষ ও ও আমার কাছে দেড় লক্ষ টাকা পায় বলে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে। রাজিবের কাছে রয়েছে পিস্তল। সে এই পিস্তল দেখিয়ে আমার পরিবারকে হুমকী দিয়েছে। রাজিব টোকন চৌধুরীর লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পাইনা। টোকন চৌধূরী দৌলতপুর এক সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই হওয়ায় রাজিব টোকন চৌধুরীর সহযোগি হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা। রাজিবের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এই গ্রামে বিচার দিয়েও আমাদের কোন সমাধান হয়নি। রাজিব ও আলিরাজ বাহিনীর লোকজন জামিনে বেড়িয়ে এসে পরস্পর হুমকী দিচ্ছে মামলা তুলে না নিলে তারা আমাদের গ্রাম থেকে বের করে দেবে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। যে কোন সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। এই ব্যাপারে আমরা কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার এসআই অরুন কুমার জানান, ভুক্তোভোগী প্রবাসীর স্ত্রী দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ১৭, তারিখ: ০৯-০৮-২১, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৫৪/৪২৭৫১১/৫০৬।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত আলিরাজ ও রাজিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে