কলাপাড়ায় এক কিশোরের আত্নহত্যা

প্রকাশিত: ১৭-০৬-২০২১, সময়: ১৪:৩৩ |
Share This

কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিষপানে আতœহত্যা করেছে রাব্বি মাতুব্বর (১৮) নামের এক কিশোর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের ভাড়া বাসায় বাবা মায়ের সাথে অভিমান করে বিষ পান করে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার মৃত্যু হয়। মৃত রাব্বি উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলা পাড়া গ্রামের হামিদ মাতুব্বরের ছেলে বলে জানা গেছে।
মৃতের ভাই আনিস মাতুব্বর সাংবাদিকদের জানান, রাব্বি পরিবারের সাথে ভাড়া বাসায় থেকে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতো।
কলাপাড়া থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর।।
বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাভাবিক জেয়ারের চেয়ে নদ নদী পানি

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরের বড় বড় ঢেউ তীরে এসে আছঁড়ে পড়ছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদ নদী পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দমকা হাওয়াসহ মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে নি¤œ আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার শংকায় রয়েছে স্থাণীয়রা। এদিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে রবনাবাদ নদীর পানি ফের প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বেড়ি বাঁধটি ঝুঁকিপুর্ন রয়েছে। প্লাবনের আশংকা করেছে ওই ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে এবং গভীর মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পায়রা বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সকল মাছ ধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সক্রিয় বায়ুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিজাম ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন’র সিনিয়র সহ সভাপতি হোসাইন আমির বলেন, সাগর প্রচন্ড উত্তাল রয়েছে। বড় বড় ঢেউ তীরে এসে আছঁড়ে পড়ছে। এর ফলে সৈকতের ব্যাপক বালু ক্ষয় হচ্ছে।
কুয়াকাটা ও আলীপুর মৎস্য আরৎ সমবায় সমিতির সভাপতি মো. অনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ৬৫ দিনে অবোরত থাকায় সাগরে কোন ট্রলার নাই। বর্তমানে সগর বক্ষ উত্তাল রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কলাপাড়ায় আম কিনতে মানুষের ভীড়

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সস্তা দামে আম বিক্রি করায় বুধবার দুপুরে পৌরশহরের মনোহরী পট্রিতে শত শত মানুষ আম কিনতে ভীর করেছে। ”লক্ষèা” নামের এ আম তিন কেজি ১০০ টাকায় ডেকে ডেকে বিক্রি করায় মানুষ বৃষ্টির মধ্যেও ভীর করেছে আম কেনার জন্য। এসব আম বিক্রেতারা ভ্যানের উপর আম বোঝাই করে বিক্রি শুরু করেন। আবার শেষ হয়ে গেলে স্থানীয় আড়ৎদারদের কাছ থেকে পাইকারী দরে কিনে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন এ আম। অপরদিকে, আ¤্রপলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, রূপালী আমের দাম বেশী থাকায় স্বল্প আয়ের মানুষ কম দামের আম লক্ষèা’র প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তবে অধিকাংশ ক্রেতারা বলছেন,করোনার কারনে মানুষের উপার্জন অনেকটা কমে গেছে, ফলে সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। ফলে বাজারে কম দামের আমের প্রতি মানুষের ঝোঁক থাকাটা স্বাভাবিক বলেও তারা মন্তব্য করেন ক্রেতারা। আম বিক্রেতা মো.শহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে ভাল মানের আম পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু কম দামের আম বেশী নিচ্ছে মানুষ। ফলে তারা কম দামের আমই বেশী রাখছেন। এসব আমে তাদের ব্যবসাও কম। কেজি প্রতি ২৫ টাকা দরে কিনে ৩০ টাকায় বিক্রি করায় লাভ কম হলেও ক্রেতারা কিনছেন বেশী।
এদিকে,এবছর স্থানীয় আমেরও ফলনও ভাল হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ ফরমালিন মুক্ত আম কিনতে দেশীয় এ আমের প্রাধান্য বেশী দিচ্ছেন সবচেয়ে বেশী। স্থানীয় আমের চাষাবাদ বেশী হয়েছে, কুয়াকাটা, মম্বীপাড়্,া নীলগঞ্জ, মহিপুর ও ধানখালী ইউনিয়নে। আগামী দু’এক বছরের মধ্যে এলাকার চাষীরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জায়গায় সরবরাহ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলার লোন্দা এলাকার আম চাষী মো.হায়দার আলী গাজী ।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, উপজেলায় অন্ততঃ এক হাজার কৃষক আম চাষাবাদ করছেন। এবছরও ২০২ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ রের্কড করা হয়েছে। ফলনও ভাল পেয়েছে চাষীরা। আগামীতে স্থানীয় এ আম এলাকার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা যাবে। এছাড়া এবছরও প্রতি হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ মন আমের ফলন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওই কৃষি কর্মকর্তা।

উপরে