আদালতের নির্দেশে পাইকগাছায় মৃত্যুর ৫ মাস পর কবর থেকে রানীমা’র লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত: ৩১-০৫-২০২১, সময়: ১২:৩৯ |
Share This

পাইকগাছা থেকে শেখর চন্দ্র : খুলনা জেলার পাইকগাছায় মৃত্যুর ৫ মাস পর কবর থেকে গৃহবধূ রানীমা'(২২)’র মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সোমবার সকালে পাইকগাছার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরিয়ার হক সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে চাঁদখালীর গজালিয়া গ্রাম থেকে রানীমা’র লাশ উত্তোলন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাজুল ইসলাম, ওসি ( অপারেশন) স্বপন রায়,এস আই তাপস দত্ত,তাকবীর হোসেন,আল-আমীন,সুকান্ত রায়,নিরুপম সেন ও বন্ধনা পাল। এদিকে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তাপস দত্ত জানান, লাশ উত্তোলনের প্রক্রীয়া সম্পন্ন করে ময়না তদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানাগেছে, ক’বছর পুর্বে আনুষ্ঠানিক ভাবে উপজেলার কালুয়া গ্রামের রফিকুল সরদারের বড় মেয়ে রোকেয়া সিদ্দিকী রানীমা’র সাথে পার্শ্ববতী গজালিয়া গ্রামের কামরুল সরদারের ছেলে মশিউর রহমান রাজু’র সাথে বিবাহ হয়। সংসার জীবনের এক পর্যায়ে গত ১৮ জানুয়ারী গভীর রাতে প্রাকৃতিক ডাকে রানীমা-মশিউর দম্পত্তি ঘরের বাহিরে আসে। এর এক পর্যায়ে পুকুরের ঘাটে রানীমা’র মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে চারিদিকে জানাজানি হয়। শুরুতে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হলেও রানীমার পরিবার কোথাও কোন অভিযোগ করেননি। জানাজা সম্পন্ন করে উভয় পরিবারের সম্মত্তিতে লাশের কবর দেওয়া হয়। এর পর থেকে দু’পরিবারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল। সর্বশেষ গত মাসে রফিকুলের ছোট মেয়েকে শ্বশুরবাড়ী পৌছে দেবার কথা বলে মশিউর তাকে অন্যত্র নিয়ে পাশবিক নির্যাতন করে মোবাইলে তা ধারণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় দু’পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে শেষ পর্যন্ত রফিকুল বাদী হয়ে জামাতা রাজু’র বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাপি আইনে থানায় মামলা করেন। এ মামলায় রাজু বর্তমানে জেল-হাজতে রয়েছে। এদিকে বড় মেয়ে রানীমাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে রফিকুল সরদার বাদী হয়ে রাজু তার পিতা কামরুল ও মা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গত মাসে আদালতে সি-আর মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে থানা পুলিশ গত ৫ মে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেন, যার নং-৫। মামলাটি তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ( ডিসি) মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গত ২৪ মে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য পাইকগাছার সহকারী কমিশনাকে দায়িত্ব অর্পন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিত সংশ্লিষ্টরা কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে ওসি মোঃ এজাজ শফী রানীমার অস্বাভাবিক মৃত্যু, না, স্বাভাবিক মৃত্যু তা নিশ্চিত হবার জন্য ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলেন।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে