পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত

প্রকাশিত: ১০-০৫-২০২১, সময়: ০৫:০৯ |
Share This

ডেস্ক রিপোর্ট : যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় গতকাল রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ ও মনোবাসনা পূরণের জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি এবং অধিক সাওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার আর বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এ রাত। শবে কদর উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি।লাইলাতুল কদর উপলক্ষ্যে করোনার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির আয়োজন করা হয়। পবিত্র এ রাতে অনেকেই কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।গতকাল মাগরিবের পরপরই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানী ঢাকার বড় ছোট সব মসজিদেই মুসল্লিরা সমবেত হন। এশার নামাজ জামাতে আদায়ের পর সবাই নফল নামাজসহ নানা ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল হন। বাসাবাড়িতে সারা রাত জেগে ইবাদত করেন। ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় ও আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ শেষে ঘরে ফেরেন অনেকে।
লাইলাতুল কদরের রাত বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রাত। লাইলাতুল কদর অর্থ মহিমান্বিত রজনী বা মর্যাদাসম্পন্ন রাত। পবিত্র এ রাতেই মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছিল পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। পবিত্র কোরআনে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নবি করিম (সা.) এ রাতে নিজে ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং তার সাহাবিদেরও বেশি বেশি ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন। রমজান মাসের ২১ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে বেজোড় সংখ্যার রাতেই পবিত্র লাইলাতুল কদর। তবে ২৭ রমজান অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাতকেই কদরের রাত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।গুনাহ মাফ ও অধিক সওয়াবের আশায় রোববার রাত জেগে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, নফল ইবাদত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবেকদর পালন করেছেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বেশিরভাগ ধর্মপ্রাণ মানুষ বাসায় ইবাদত-বন্দেগি করেছেন।শবেকদর সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।এই রাতেই মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল হয়। শবেকদরের রাতকে কেন্দ্র করে পবিত্র কুরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সূরা রয়েছে।করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায় শবেকদরের রাতে বিভিন্ন মসজিদেও মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।মসজিদ এবং নিজ গৃৃহ সর্বত্রই যারা নফল ইবাদত করেন, তারাও করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেন। অনেক মসজিদে রাতে তারাবির নামাজে পবিত্র কুরআন খতম সম্পন্ন হয়।

উপরে