আশাশুনিতে জেলা পরিষদের ৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ লোপাট

প্রকাশিত: ০৬-০৫-২০২১, সময়: ১৬:২১ |
Share This

আহসান হাবিব, আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনিতে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ারের সহযোগিতায় ৫ লক্ষাধিক টাকার বৃহদাকারের শিশু গাছ কেটে ২/৩ অংশ লোপাট এবং ডাল বিক্রয়ের লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসনিকভাবে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এলাবাসির অভিযোগ। উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা-শোভনালী সড়কের শ্বেতপুর গ্রামের মধ্যবর্তী ন্যাজারিন মিশনের নিকটে মেইন কার্পেটিং সড়কের পাশের কাচা অংশ ও স্লোব জুড়ে বৃহৎ আকৃত্রির দীর্ঘ কালের গাছটি এলাকার মানুষের কাছে কালের স্বাক্ষী হিসাবে বিবেচিত ছিল। গাছের আকৃতি এতটা বৃহৎ ছিল যে এলাকা জুড়ে ছায়া বিতরণ করে আসছিল। গাছের কাছ থেকে অনেকটা দূরে বসবাসকারী মোহাম্মদ ঢালীর পুত্র রেজাউল করিম গাছের কাছে ভবিষ্যতে বাড়ি করা ইচ্ছা থাকলেও করেননি, যদি কোনদিন গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙ্গে পড়ে তার ক্ষতি হয়। এমন ভবিষ্যতব্য ক্ষতির কথা তুলে ধরে গাছ কেটে নেওয়ার আবেদন করেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে। জেলা পরিষদ গাছ কাটার প্রয়োজন অনুভব করলে বিধি মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রয় করতে পারেন। কিন্তু, না টেন্ডার আহবান করা হয়েছে, না কাউকে কেটে নিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এলাকার অনেকে জানান, তারপরও ধুরন্ধর রেজাউল জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামানের সাথে যোগসাজস করে আর্থিক চুক্তিবদ্ধ হয়ে জন মজুর লাগিয়ে ২০ এপ্রিল করোনা কালীন ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। বিদ্যুৎ বিভাগে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করিয়ে গাছ কাটা হয়।
বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ আ.ব.ম মোছাদ্দেক জানতে পেরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মুঠোফোনে অভিযোগ করেও গাছ কাটা বন্ধ হয়নি। বরং আরও দ্রুততার সাথে গাছের ডাল কেটে লক্ষাধিক টাকার ডালপালা বিক্রয় করে দেওয়া হয়। এরপর বৃহৎ বৃক্ষের শাখা ডালগুলো যেগুলো বড় বড় গাছের লগের সাইজের, মূল্যবান লগাকৃতির ডালগুলো ট্রাকে ভরে ঢাকায় চালান করা হয়। গাছের গোড়ার (মুড়ো) মন মন কাঠ বিক্রয় করে দেওয়া হয়। মূল লগটি এতটা বড় যে সেটি সহজে ট্রাকে উঠানো সম্ভব নয়, সে জন্য সেটিসহ কয়েকটি লগ ট্রাকে উঠানোর সুযোগ না থাকায় এবং বিশেষ করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করায় সেগুলো পাচার করা হয়নি। তবে একাধিক সূত্রে জানাগেছে, গাছের ডাল বিক্রয়কৃত লক্ষাধিক টাকা এবং ট্রাকে করে পাচার করা গাছের শাখার লকগুলোর বিক্রয় লব্ধ আরও কয়েক লক্ষ টাকা রেজাউল ও সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
রেজাউল গাছ কাটার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে যে দরখাস্ত করেছিলেন, তাকে ২৯ ডিসেম্বর’২০ তারিখে জেলা পরিষদের কর্মকর্তাগণের রিসিভের স্বাক্ষর স্বারক নম্বর রয়েছে। সবশেষ তারিখ লেখা আছে ১৪ জানুয়ারী’২১। অর্থাৎ কয়কদিন দরখাস্তটি দপ্তরে ঘোরাফেরা করেছে, তবে কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সিদ্ধান্ত না হলেও গোপনে আঁতাতের মাধ্যমে গাছ কেটে লোপাটের কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়। যেটি বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে চলে আসে। ইউপি চেয়ারম্যান মোছাদ্দেক গাছ কাটা বন্ধ না হওয়ায় কয়েকবার তার প্রতিনিধি ঘটনাস্থানে পাঠালে ডাল বিক্রয়ের এক লক্ষ টাকার ৪০ হাজার টাকা গাছ কাটার শ্রমিকদের মজুরি দিয়েছে, বাকী ৬০ হাজার টকা সার্ভেয়ার হাসানকে দিয়েছে বলে রেজাউল তাদের কাছে স্বীকার করেন বলে জানাগেছে।
বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আ.ব.ম মোছাদ্দেক বলেন, গাছ কাটতে দেখে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে জেলা পরিষদের অনুমতি নিয়ে এবং সার্ভেয়ার হাসান গাছ কাটছে বলেছে বলে তারা জানায়। বিষয়টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে মোবাইলে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। কিন্তু, পরবর্তীতে গাছ কাটা বন্ধ না হওয়ায় আমি আর যোগযোগ করিনি।
সার্ভেয়ার হাসান সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ ভাবে গাছ কেটেছে রেজাউল ইসলাম। খবর প্রকাশের পর গাছের যে অংশ ঘটনাস্থলে ছিল সেগুলো জব্দ করে জেলা পরিষদে নেওয়া হয়েছে। রেজাউলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আহসান হাবিবের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে প্রথমদিন তিনি জানিয়েছিলেন, গাছ কাটা কেন, বিনা অনুমতিতে ডাল কাটারও সুযোগ নেই। শ্বেতপুরে কোন গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদি কেহ গাছ কাটে সেটা আমাদের অজান্তে হয়েছে। আমি লোক পাঠাচ্ছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সার্ভেয়ার হাসানুজ্জামান কিভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই “গাছ খেকো কর্মী” এর মত লক্ষ লক্ষ টাকার বৃহদাকৃত্রির গাছ দিবালোকে কেটে হজম করার মত নাটক মঞ্চস্থ করার সাহস পেল সেটি এলাকাবাসিকে হতবাক করে তুলেছে। গাছ জব্দ করা হয়েছে, এমন সস্তা বক্তব্য সত্যি হাস্যকর, কেননা গাছ জব্দ করার সাথে সাথে আইনগত কোন পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি ? এমন প্রশ্ন সামনে আসা স্বাভাবিক নয়কি ? গাছা কাটা ১৬ দিন পার হয়েছে, পত্রিকায় এ ব্যাপারে ৮ দিন আগে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও কেন কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ? এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে এলাকাবাসী যথাযথ ব্যবস্থা ব্যবস্থা গ্রহনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেচেন।

আশাশুনিতে সাংবাদিক আকাশের পিতার মৃত্যু বার্ষিকী পালন

আহসান হাবিব, আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনি প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আকাশ হোসেনের পিতা মরহুম আজিম উদ্দিন সরদারের ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের হাজিডাঙ্গা গ্রামের মরহুমের নিজস্ব বাসভবনে সকালে পবিত্র কুরআন খতম, বাদ আসর দোয়া অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় হাজিডাঙ্গা পুরাতন মসজিদ ও নতুন মসজিদে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় আশাশুনি প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ, মরহুমের আত্মীয় স্বজন ও মুসল্লীবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

     ফলোআপঃ

আশাশুনির কিশোর গ্যাং’র ছিনতায় ও মারপিটের শিকার অসহায় মুরাদ এখন ঢাকায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে

আহসান হাবিব, আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনির কুল্যায় কিশোর গ্যাং’র ছিনতায় ও মারপিটের শিকার আহত মুরাদ হোসেন এখন বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। গত ২৩ এপ্রিল রাত ৮ টার দিকে উপজেলারর কুল্যা ব্রীজ এলাকায় একদল কিশোর গ্যাং মুরাদকে পিটিয়ে মারাত্বক জখম করে প্রায় অর্ধশত টাকা ছিনতাই করে। পরে আহত মুরাদকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করে। মুরাদের একটি চোয়ালের হাড় ভেঙ্গে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যায়ক্রমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরোয়ার্দী হাসপাতাল এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত মুরাদ হোসেনের মা রেহেনা খাতুন বলেন এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কুল্যার সরকারি গুচ্ছ গ্রামে বসবাস করেন তিনি। সম্প্রতি কুল্যা গ্রামে নানাবাড়ি বসবাসকারী আলম সরদারের ছেলে রানা হোসেন, একই গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুর সরদারের ছেলে সাইদুল্যাহ সরদার এ ৩ জন কিশোর গ্যাং সদস্য মিলে ঘটনার সময় তার ছেলেকে পিটিয়ে মারাত্বক আহত করে আম বাগান ক্রয় করা ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুরাদের মা রেহেনা খাতুন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন। কুল্যা শাহাজী পাড়ার একাধিক ব্যক্তি জানান, বহু অপকর্মের হোতা ছিনতাইকারী রানার পিতা আলম সরদার ইতোপূর্বে একাধিক মামলা ও অপকর্মের অভিযোগে কুল্যা গ্রামে স্থায়ী বসবাসের জন্য এলাকাবাসি বাঁধা নিষেধ করেছেন। ফলে আলম সরদার এখন যশোর এলাকায় বসবাস করে। কিন্তু তার মাদকাসক্ত বকাটে ছেলে রানাকে কুল্যায় নানাবাড়ী রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে সে তার দৈনন্দিন অপকর্ম অব্যহত রেখেছে। চুরি, ছিনতাই, জমি দখল, হামলা, মামলা এ যেন রানা ও তার কয়েকজন সঙ্গীর নিত্য দিনের রুটিনে পরিনত হয়েছে। কুল্যা গ্রামের আ’লীগ নেতা সোহরাব হোসেন বলেন, আলম ও তার ছেলে রানা হোসেনের কিশোর গাংদের বিষয়ে কেউ মুখ খুললেই তার ধন সম্পদের উপর কোন না কোন ক্ষয় ক্ষতি বা প্রতিবাদকারীর নামে যশোর জেলা আদালতে বিভিন্ন কল্প কাহিনী সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ওই আলম সরদার। ভয়ে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে অনেকেই। সোহরাব হোসেন আরও জানান, এলাকার দানবীর ব্যক্তিদের নিকট থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মুরাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত মুরাদের পিতা আব্দুল মজিদ শাহাজীসহ ভূক্তভোগী এলাকাবাসি রানাসহ তার বখাটে কিশোর গাংদের গ্রেপ্তার পূর্বক দ্রুত বিচার আইনের আওতায় নেয়ার জন্য পলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য আল. আব্দুল মাজেদ গাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পর আমি আহত মুরাদ হোসেনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম এবং তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতাও করেছি। এদিকে, এ ঘটনায় পরদিন দৈনিক পত্রদূতসহ কয়েকটি পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে কিশোর গ্যাংদের গাত্রদাহ শুরু হয়। হামলার শিকার মুরাদ হোসেনের পরিবারকে চিকিৎসা সহযোগিতা না করে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুরাদের পরিবার। ছেলের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে মা রেহেনা খাতুন বলেন বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে মুরাদের ডেন্টাল সার্জারী করা হয়েছে এবং আগামী ১৪দিন পর পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হবে বলে তাদেরকে জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় অসহায় গরীব পরিবারের সন্তান মুরাদ হোসেনের চিকিৎসা সহায়তা পেতে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ কামনা এবং ছেলের উপর অতর্কিত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অসহায় ভুক্তভোগী পরিবার।

উপরে