মোঃ শফিকুল ইসলাম দুলাল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নে তন্ত্র মন্ত্রের দিয়ে সাপ টানার প্রতিযোগিতায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয় ছিল। এমন খেলা দেখে বিমোহিত ও খুশি দর্শকরা।সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কাচারী বাজার যুব সমাজের আয়োজনে গত রবিবার বিকালে কাচারী বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাপ দিয়ে এ পাতা খেলা উদ্বোধন হয়। পুরো মাঠ জুড়ে ছিলো দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়ের সাথে এলাকায় উৎসবের আমেজ।সাপ দিয়ে এ পাতা খেলায় বড়গাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূল্লী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী।
উদ্ভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বড়গাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, বালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী মুক্তি, বড়গাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ মনি, কাচারী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতিকান্ত দেবনাথ, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিরুল ইসলাম হেলাল, ভূল্লী ডিগ্রী কলেজের প্রভাসক সাহারিয়ার আলম সোহান, সাবেক ইউ.পি সদস্য জিল্লুর রহমান সহ প্রমুখ। খেলা দেখতে আসা জান্নাতুন বলেন, ‘পাতা খেলা নামে যে কোনও খেলা যে ছিল তা জানা ছিল না। এই খেলা আগে কখনও দেখিনি। খেলাটি খুব মজার।দর্শক আবু সাঈদ বলেন, ‘আমাদের গ্রামগঞ্জে কখনোই পাতা খেলা হয়নি। তাই দেখতে এসেছি। মন্ত্রের মধ্য দিয়ে মানুষজন তার দিকে সাপকে টানছে। এটা একটা অদ্ভুত খেলা।’
আরেক দর্শক রেজাউল বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম তখনকার ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় ছিল পাতা খেলা। আগে এই খেলা বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ কোথাও দেখা যায় না। তাই অনেক দিন পর এমন খেলার কথা শুনে আর লোভ সামলাতে পারিনি। খেলাটি উপভোগ করলাম। খুব ভালো লাগলো।বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১৪টি তান্ত্রিক দল তাদের তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে পাতা রূপী সাপকে মাঠের মাঝখান থেকে চারদিকে টানার প্রতিযোগিতা করে। ০৩ দিন ব্যাপি প্রতিযোগিতা চলবে যার পয়েন্ট বেশি হবে সেই তান্ত্রিক দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ইউ.পি সদস্য মনিরুজ্জামান মঞ্জু জানান, আমরা এলাকার মানুষকে আনন্দ দিতে এবং হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার এই খেলাটি নতুন প্রজন্মকে জানান দিতেই এই আয়োজন। খেলায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৪টি তান্ত্রিক দল অংশগ্রহণ করেছে এবং খেলাটিও বেশ জমজমাট হয়েছে ০৩ দিন ব্যাপি খেলাটি চলবে। অতিথি গণ এ খেলা নিয়মিত আয়োজনের অনুরোধ জানায় আয়োজকদের। সহযোগিতা পেলে প্রতিবছরই এ ধরনের খেলার আয়োজন করা হবে বলে জানায় আয়োজকরা।