হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি : জনবল সংকট সহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর, জনবল সঙ্কট সহ বিভিন্ন সমস্যার কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুরাতন ভবনে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে নতুন ভবনে ৫০ শয্যার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে তুলনায় কোনো বরাদ্দ মিলছে না। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন শতশত রোগী আসে বর্হিবিভাগে চিকিৎসার জন্য।জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া গ্রামের গোলাম আজম , বালাপাড়া গ্রামের শহিদ ,ডাউয়াবারী নেকবক্ত গ্রামের আজিজুল ইসলাম মহসেনা খাতুনসহ আরও অনেকের সাথে কথা হয়। তারা সবাই বলেন শরীরের বিভিন্ন রোগ পরীক্ষা সামগ্রী না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।হাসপাতাল সূত্র জানায় উপজেলার এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩৩ জন চিকিৎসকের স্থলে রয়েছে ২০ জন চিকিৎসক।এ ২০ জন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অপারেশন থিয়েটারে সার্জারী এবং এনেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার অনুমোদিত ১ম শ্রেনীর ৩৩ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ২য় শ্রেনীর৷ নার্স ৩৪ জনের মধে আছেন ৩৩ জন। ৩য় শ্রেনীর ষ্টাফ ১০৩ জনের মধ্যে ৬৬ জন। ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী ২৩ জনের মধ্যে ১৮ জন। সিএইচ সিপি ৪৩ জনের মধ্যে ৪২ জন আছেন। পরিচ্ছন্নকর্মী ৫ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ১ জন। এছাড়া, গাইনি ও সার্জিক্যাল স্পেশালিস্টের পদ শূন্য থাকার কারনে সিজারিয়ান অপারেশনের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকায় রোগীরা পরেন ভোগান্তিতে। তাছারা অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ডেন্টাল ও চক্ষু রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু নেই সামগ্রী।তাছাড়া হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন দুটি সরকারি এ্যাম্ভুলেন্স থাকা সত্বেও সেগুলো বর্তমানে নষ্ট হয়ে পরে আছে। এই গাড়ী দুটির পুরাতনটির ইন্জিনের সমস্যা, অপর নতুন টির টায়ার সমস্যা থাকায় তা বিআরটি এ-র রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার না থাকার কারনে সমাধানের জন্য বিআরটি এ-র অনুমতি নিতে পারছে না।আর গাড়ীর ক্রয় সংক্রান্ত কাগজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে থাকায় তা মেরামত করতে পারছে না তাই রোগীরা তার সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে সেন্ট্রাল ষ্টোর কমপ্লেক্স না থাকার কারনে সকল যন্ত্রপাতি সহ জিনিস নষ্ট হচ্ছে বিভিন স্থানে রাখার কারনে। হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গ্রামীন ফোনের সরকারী সিম বন্ধ থাকায় তিনি ও জনগন সেবা দেওয়া নেওয়ার জন্য সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া হাসপাতালে ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চেম্বারে ছাদে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হাসান মোঃ রেজওয়ানুল কবীর বলেন, হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত, তা সংস্কার ও মেরামতের জন্য চাহিদা দিয়ে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সমস্যাগুলো সমাধান হলে আর কোন সমস্যা হবে না।