জুলফিকার আমীন সোহেল : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া ও বাগেরহাটের শরণখোলার মধ্যবর্তী বলেশ্বর নদের নাব্যতা রক্ষায় অবশেষে ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বলেশ্বরের নাব্যতা রক্ষা এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজি এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন এর যৌথ স্বাক্ষরিত একটি পত্র গত ১৪ নবেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রী বরাবরে প্রেরণ করা হয়। ওই পত্রের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলে বড় মাছুয়া- শরণখোলায় ফেরি চলাচলের পথ অত্যান্ত সহজ হবে।গত ৩ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বাংলাদেশ অভ্যান্তরিন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিøউটিএ) সাঙ্গু নামের একটি ড্রেজার দিয়ে ডুবোচর কাটা শুরু করেছে। ২৮০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১২০ ফুট প্রস্থের এই চর কাটতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশি¬ষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ইতোমধ্যে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ রুস্তম আলী ফরাজি এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন ড্রেজিং কাজের অগ্রগতি পরিদর্শণ করেন। গত বছররের ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ভাবে এ দুই সাংসদ বলেশ^র নদীতে বড় মাছুয়ায়- শরণখোলা (রায়েন্দা) ফেরী চলাচলের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মঠবাড়িযা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত, মঠবাড়িয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান সিফাতসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ফেরী চালু হওয়ায় দুপারের মানুষের দীর্ঘ্য ৫০ বছর পর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো।জানা যায়, বলেশ্বর নদের পূর্ব পারে মঠবাড়িয়া এবং পশ্চিম পারে শরণখোলা উপজেলার অবস্থান। এই উপজেলা দুটিকে বিভক্ত করে রেখেছে প্রায় আড়াই কিলোমিটার প্রস্থের বলেশ্বর নদটি। ১৫-১৬ বছর আগে থেকে এই নদের মাঝ বারাবর ধীরে ধীরে চর পড়তে শুরু করে। বর্তমানে ভাটির সময় বলেশ্বরের বুক চিরে জেগে ওঠে বিশাল বালুচর। আর জোয়ারের সময় তলিয়ে যায়। এতে বড় নৌযান চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হয়। এই চরের কারণে আড়াই কিলোমিটার নদ পার হতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। চরের বাইরে থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে ঘাটে পৌছায় ফেরি। এতে অতিরিক্ত সময়ের কারণে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি ফেরির জ্বালানি খরচও বেশি হয়। ড্রেজিং সম্পন্ন হলে দুই ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। ফলে যাত্রীদের সময় এবং ফেরির জ্বালানি দুটোই সাশ্রয় হবে।বাংলাদেশ অভ্যান্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন জানান, বলেশ্বর নদের মাঝে ২৮০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থ জেগে ওঠা চর কেটে নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। এতে তাদের প্রায় ২০-২৫ দিন সময় লাগতে পারে। তবে স্রোতের কারণে কাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।ফেরির সুপার ভাইজার মিন্টু অধিকারী জানান, চর ড্রেজিং করা হলে দুই ঘণ্টার পথ পার হতে সময় লাগবে মাত্র আধা ঘণ্টা। তাতে সময় এবং জ্বালানি খরচ অনেক কমে আসবে।বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন বলেন, বলেশ্বর নদে ফেরি চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলার মানুষ উপকৃত হচ্ছে। ড্রেজিং করা হলে ফেরি চলাচল আরো সহজ এবং মানুষের দুর্ভোগ কমবে।পিরোজপুর-৩ আসনের সাংসদ ডাঃ রুস্তুম আলী ফরাজি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে যোগাযোগ উন্নয়ণে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এক রোল মডেল। তারই ধারবাহিকতায় বলেশ্বর নদের ফেরি যুক্ত হওয়ায় যোগাযোগে আরও এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এ ফেরি চালু হওয়ায় খুলনার সঙ্গে বরিশাল বিভাগ এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের মধ্যে তৈরী হবে এক সেতুবন্ধন। এই ফেরি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।