আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃগাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও ঘাঘটনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি, মৎস্য, প্রাণী সম্পদ, রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থপনাদিতে ব্যপক ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্যনির্ভর সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন থেকে ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নদীদ্বয়ের পানিবৃদ্ধি শুরু হয়। বর্তমানে তিস্তানদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে ও ঘাঘটনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। এতে কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, বামনডাঙ্গা ও শান্তিরাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পৃথক পৃথকভাবে কথা হলে তাঁদের দেয়া তথ্য মতে এসব ইউনিয়নের সাড়ে ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এসব পরিবারের মানুষজন গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে বাঁধের রাস্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়ণ কেন্দ্রেগুলোতে অবস্থান নেন। পানিতে নিমজ্জিত হয় ঘর-বাড়ি, কৃষি ফসলের মাঠ, মৎস্য ঘের, রাস্তা-ঘাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনাদি।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল ফাত্তাহ জানান, পানিবাহিত রোগ মোকাবেলায় উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের জন্য অতিরিক্ত ১৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধপত্রসহ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাশিদুল কবির জানান, নদীর বৃদ্ধি পাওয়া পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১ হাজার ২০ হেক্টর জমির ফসল। এরমধ্যে পাট ৫’শ ৪০, আউশ ধান ১’শ ৭৫, শাক-সবজি ১’শ ২০, তিল ৪৫, চিনা বাদাম ৬০. মরিচ ৩০, আমন বীজতলা ৪৫ হেক্টর। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা একেএম ফজলুল করিম জানান, তিস্তা নদীর চর ও ক‚লবর্তী এলাকায় ২-৩ হাজার খামার রয়েছে। পানিতে গো-খাদ্য, পানীয় জল সঙ্কট দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি এসব গরু-ছাগলের ক্ষুরা রোগসহ পানি বাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সামসুল আরেফিন খান জানান, তাঁর দপ্তরাধীন ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে কোন তথ্য এখনো আসেনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মন্ডল জানান, অন্যান্য ক্ষয়-ক্ষতি এখনো নিরুপণ করা হয়নি। তবে, পানিবন্দি ২ হাজার ৮’শ পরিবারের মাঝে ২২ মে. টন চাল প্রদান করা হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জান যায়, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে, ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমতে শুরু হয়েছে।