আওরঙ্গজেব কামাল : ঝাল ঝাল খাবার ছাড়া মুখে রোচে না। এ দিকে সারা ক্ষণ বাড়ির লোকের বকা খেতে হয়। এত ঝাল খেলে কি শরীর ঠিক থাকে? স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়। কী আর করা। কষা মাংস, ব্রাউন মটন চাঁপ বা ঝাল ঝাল আলুরদম, পাতে পেলে জমে যেতে পারে যে কোনও আসর। আর এই সব খাবারে একটু ঝাল, তেল, মশলা না থাকলে যেন ঠিক ভালো লাগে না। আজকাল শরীরসচেতন অনেকেই এ সব খাবার এড়িয়ে গেলেও সাধারণত মন টানে এসব খাবার-ই! শুধু বাঙালি রান্নায় নয়, বর্তমানে অনেক দেশে যে কোনও ডিশেই স্পাইসের ব্যবহার বা ঝাল-মশলার ব্যবহার যথেষ্ট পরিমাণে হয়। যা খেতে অভ্যস্ত বাচ্চারাও। বাড়িতে না পেলেও বাইরে লুকিয়ে লুকিয়ে দিব্যি পেটে চালান করে দেন ঝাল ঝাল খাবার। শুকনো লঙ্কায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি থাকে। শুকনো লঙ্কা ছাড়া রান্নায় স্বাদ বা রং, কোনটিই আসে না। ডালে ফোড়ন থেকে, খাসির মাংসের ঝোল— সবেতে শুকনো লঙ্কা লাগবেই। অনেকের ধারণা, বেশি শুকনো লঙ্কা খেলে পেটের অসুখ হয়। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন পাতে রাখুন শুকনো লঙ্কা রাখা যেতেই পারে। সুস্বাস্থ্যের জন্য শুকনোর লঙ্কার নানা গুণ। ঝাঁঝালো গন্ধের খাবার হার্টের জন্য ভাল। ঝাল খেলে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা কমে। ফলে হার্ট ভাল থাকে। ঝাল মরিচ খেলে শরীরে লো ডেনসিটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যা হার্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। ঝাল ও মশলাদার খাবার মুডও ভাল করে। এতে সেরোটোনিন নামের ফিল-গুড হরমোন আছে। যাতে দুশ্চিন্তা-অবসাদ দূর করে মনকে ভাল রাখে। আপ মন ভাল থাকলেই তো শরীর চাঙ্গা। লঙ্কার মধ্যে ভিটামিন A ও C থাকার কারণে রক্তনালী সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলোজির জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি। গবেষকরা অবশ্য জানিয়েছেন যে শুধু মরিচ খেলেই হবে না, হার্ট ভালো রাখার জন্য এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে কী ভাবে প্রভাব ফেলে শুকনো লঙ্কা?
১) চোখ ভাল রাখে: শুকনো লঙ্কায় থাকে ভিটামিন এ, যা চোখের জন্য খুব উপকারী। রেটিনার কোষের ক্ষয় আটকায়। দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়।
২) প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: শুকনো লঙ্কায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি থাকে। এই লঙ্কা নাসিকাপথ পরিষ্কার করে। অন্ত্র, মূত্রনালী ও ফুসফুসে কোনও সংক্রমণের ঝুঁকিও কমায়।
৩) ব্যথা কমায়: বাতের ব্যথায় শুকনো লঙ্কা দারুণ কাজ দেয়। শুকনো লঙ্কায় থাকা ক্যাপসাইসিন যে কোনও ধরনের পেশীর ব্যথা, গাঁটের ব্যথা ও অস্টিও-আর্থারাইটিসের যন্ত্রণা কমায়। ঠান্ডা লেগে গলা ব্যথা করলেও শুকনো লঙ্কা খেলে উপশম পাওয়া যায়।
৪) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: শুকনো লঙ্কা কোলেস্টেরল কমায়। অনুচক্রিকাকে জমাট বাঁধতে দেয় না। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। ধমনীকে প্রসারিত করে। যার ফলে কমে রক্তচাপ। কমে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও।
৫) যৌন উদ্দীপনা বাড়ায়: শুকনো লঙ্কায় থাকা ক্যাপসাইসিন যৌন উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।