আওরঙ্গজেব কামাল : বন্যায় ভাসছে সিলেট সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকা।এসব এলাকায় বাঁচার আকুতি মানুষের । দেশের কয়েক জায়গায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের সঙ্গে পাঁচ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় লালমনিরহাটের ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে।তলিয়ে গেছে বাড়ী ঘর।বর্তমানে সিলেটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নগরের নদী তীরবর্তী এলাকায়ও ঢুকে পড়েছে পানি। ফলে পানিতে ভাসছে সুরমা তীরবর্তী অঞ্চল। এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যায় অসহায় হয়ে পড়েছেন মানুষ। খাবার, বিশুদ্ধ পানির জন্য চলছে হাহাকার। পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। লাখ লাখ মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। ভেসে গেছে বাড়ী ঘর,রাস্তা,মসজিদ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ফসলী জমি। অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।পানিবন্দি অবস্থায় আছেন জেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ। চরম ভোগান্তি রয়েছেন বানভাসিরা।
এলাকাবাসীরা জানায় উপজেলার উত্তর রণিখাই গ্রামের বাড়িতে ঘরে এখন ৭ ফু্ট পানি। এরমধ্যে ভবনের উপরে আশ্রয়ে আছেন অনেকে, সেখান থেকে নৌকা করে সালুটিকরে শহরে বা স্কুলে এসে পৌঁছান অনেকে। তারা বলেন হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছাড়ার অ’পেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার লাখো মানুষ রয়েছেন পানিবন্দী। বন্যায় গ্রাস করছে সব এলাকা। কোনো বাড়িই রক্ষা পাচ্ছে না বন্যার করাল গ্রাস থেকে।অনাহারে থাকা লোকজন এখন কেবল প্রাণে বাঁচতে চান। কিন্তু একটি নৌকা মেলানো তাদের কাছে এখন সোনার হরিনের মতো। অনেক চড়া মুল্যে নৌকায় যেতে হচ্ছে। মানিক মিয়া নামের এ বৃদ্ধা বলেন আমি এমন ভয়নক বন্যা ৬০ বছরও দেখেনি। আমার উপজোর প্রায় শতভাগ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। কেউ ত্রাণ চায় না, সকলে প্রাণে বাঁচতে চায়। তাছাড়া গত ৫দিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় মোবাইলফোনে যোগাযোগ বন্ধ। ফলে উদ্ধার সহায়তা চাওয়ার সুযোগ এখন আর নেই। এ জন্য মানুষকে খোঁজে খোঁজে উদ্ধার করছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন , ভয়াবহ বন্যায় কবলীত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার না করা গেলে অনেক বিপদ হয়ে যেতে পারে।মানুষ এখন ত্রাণ চায় না, প্রানে বাঁ’চাতে চায়। কিন্তু হাওরে আফা’ল (ঢেউ) চলছে। ছোট নৌকা দিয়ে পারাপার বেশি ঝুকি, যেকোন সময় ডুবে যেতে পারে। ফলে অনেকে পানিবন্ধী অবস্থায় এখনো আছেন। পানি বাড়তে থাকায় উদ্ধারের আর্তনাদে রয়েছেন মানুষজন। তাই মানুষজনকে উদ্ধারে বড় নৌকা নিয়ে যাওয়া দরকার। স্থানীয় সূত্র জানায়, মানুষ টাকা দিয়ে একটি নৌকা ব্যবস্থা করতে পারছেন না। ফলে উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে। এখন কে-কাকে উদ্ধার করবে, এমন দৃশ্য চোখে দেখের দেখার মত নয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানাযায়
খুব ভয়াভহ অবস্থা সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, সিলেট সদর উপজেলাতেও। এছাড়া সিলেটের ১৩টি উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়ের সন্ধানে রযেছেন মানুষ।