মীর রাজিবুল হাসান নাজমুল : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। এ সেতু বহির্বিশ্বে আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ দিয়েই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান করেছেন। শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জের মূল শক্তিই হচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা।তিনি বলেন, পদ্মা সেতুকে নিয়ে বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে হবে। বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংক ও আমেরিকার মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও আমেরিকার মিথ্যা অপবাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। এই অপবাদের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তারা শুধু বাংলাদেশকে নয় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিানকে অপমান করেছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে তারা সফল হয়নি। তিনি বলেন, কানাডার আদালতে প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনা নিরাপরাধ। আপনারা আওয়ামী লীগের প্রাণ ও শক্তি। আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বিএনপি ও দেশী-বিদেশী অপশক্তিরা পদ্মা সেতুকে নিয়ে যে নাশকতা ও ষড়যন্ত্র করছে এদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত বাংলাদেশকে নিয়ে শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জে অতীতের মতো আপনাদেরকে সাথে নিয়ে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। ওদের নাশকতার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার থাকুন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে পদ্মা সেতু নকশা করে তদানুযায়ী রাস্তা করেছিলেন। সেই রাস্তার সূত্র ধরেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মান করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন। এই সফলতার কোন ভাগ কাউকে দেয়া যাবে না। বিএনপি-জামাত ও ষড়যন্ত্রকারীদের সস্তা জনপ্রিয়তা নিতে দেয়া যাবে না। এই সফলতা ও জনপ্রিয়তা একমাত্র শেখ হাসিনারই। ওদের হাতে দেশ অরক্ষিত। শেখ হাসিনার হাতে দেশ নিরাপদ। এ নিরাপদ রাষ্ট্র ও সরকারকে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করতে হবে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে কেউই কথা বলতে পারবে না।গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় নগরীর ইউনাইটেড ক্লাবে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যেগে ঐতিহাসিক পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করার লক্ষে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারীর সঞ্চালনায় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শিদী। অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও চেম্বার সভাপতি কাজি আমিনুল হক।সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম সানাউল্লাহ নান্নু, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী, খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মহসিন রেজা, পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন, দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান, দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেন, ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার, তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এম ওয়াহিদুজ্জামান। এসময়ে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য, মহানগরীর পাঁচ থানা, নয় উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, নির্বাচিত দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র, মহানগরীর ৩৬ ওয়ার্ডের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও জেলার সকল ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত দলীয় সকল কাউন্সিলর এবং জেলার সকল ইউনিয়নের নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যানসহ মহানগর ও জেলা পর্যায়ের সকল সহযোগী সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় সহযোগীতা করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এম এ রিয়াজ কচি, মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক হাফেজ মো. শামীম, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল।সভায় নাশকতা প্রতিরোধে প্রত্যেক গাড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তাকর্মী রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সুশৃঙ্খলভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।