ফিরোজ আহম্মেদ ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলায় পৌর এলাকার বলিদাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছোট মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২২) ও তার নাতী শিশু পু্ত্র সন্তান তাহসিন হোসেন(৩) গত দুই ধরে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ স্মৃতির স্বামী ও শিশু পুত্র তাহসিন হোসেন পিতা নাঈম শিকদার বর্তমানে সৌদিআরব দেশে শ্রমিকের কাজ করে।
এ ব্যপারে নিখোঁজের পিতা আনোয়ার হোসেন জানান,আমার মেয়ে স্মৃতি ও তার শিশু পুত্র নিয়ে গত ১১মার্চ শুক্রবার সকাল ৮টা দিকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য তার বাড়ি(মোচিক কলোনি) থেকে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আসে। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মধুমতি পরিবহনে চড়ে তার শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নে চরনারানদিয়া গ্রামে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়।
বেলা সাড়ে ১১টা ২০মিনিটে স্মৃতি তার ভাই সেলিম রেজার মোবাইলে ফোন কল করে কথা বলেন,সে তার ভাই জানান আমি ফরিদপুর জেলার মাইজকান্দি নামক বাসস্ট্যান্ডে নেমেছি,সেখান থেকে বোয়ালমারী বাজারে যাবার জন্য অন্য একটি যাত্রীবাসে যাচ্ছি, এমন কথা বলেছে।এরপর দুপুর পার হয়ে গেলে স্মৃতি আর কোন ফোনে কল না করায় ভাই সেলিমরেজা তার শ্বাশুড়ি নাসিমা বেগমের মোবাইল নম্বরে কল করে জানতে চাই স্মৃতি ও তার শিশু পুত্র পৌঁছায়াছে কিনা,তখন তার শ্বাশুড়ি জবাব দেন না, এখনো আসেনি। পরে দুপুর গড়িয়ে রাত হলেও সে তার স্বামী -শ্বশুর বাড়ি যায়নি এমন কথা জানান নিখোঁজ স্মৃতির শ্বাশুড়ি নাসিমা বেগম। নিখোজের পিতা আনোয়ার হোসেন আরো বলেন গত ২০-২২ দিন আগে মেয়ে স্মৃতি আক্তার,তার শিশু পুত্র ও শ্বাশুড়ি নিয়ে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।তার শ্বাশুড়ি তিনদিন থেকে চলে যায় আর মেয়ে ও নাতি ছেলে আমার বাড়িতে থাকে।গত দুই-তিন দিন আগে মেয়ের শ্বাশুড়ি ফোন করে তাদের বাড়ি যাওয়ার জন্য।তার ন্যায় আমরা শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়ার জন্য বিদায় দিই।নিখোঁজ স্মৃতির ভাই সেলিম রেজা আমাদের নতুন সময় পত্রিকার প্রতিনিধিকে ফিরোজ আহম্মেদ এর মোবাইলে ফোনে কল করে জানান, সে তার বোন স্মৃতির শ্বশুর বাড়িতে রয়েছে,সেই এলাকায় বিভিন্ন বাজার, গ্রাম ও আত্মীয় স্বজন বাড়ি খোঁজ নিয়েছে কিন্তু কোথাও বোন স্মৃতি আক্তার ও শিশু পুত্র তাহসান নামে ভাগ্নের সন্ধান পায়নি। তায় আমার পিতা আনোয়ার হোসেন শনিবার ১২মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে স্মৃতি আক্তার ও তার শিশু পুত্র তাহসান হোসেন নিখোঁজ নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরীর আবেদন করেছে। সাধারণ ডায়েরী নম্বর-৬১৫.সেলিমরেজা আরো বলেন প্রশাসন কর্মকর্তারা যথাযথ আন্তরিক ভাবে ব্যাবস্থা নিয়ে তার বোন ও ভাগ্নেকে দ্রুত খুজে বের করতে পারবে বলে আশাকরি।এ ব্যপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মতলেবুর রহমান বলেন আমরা একটি লিখিত নিখোঁজ বিষয় নিয়ে সাধারণ ডায়েরীর আবেদন পেয়েছি। তদন্তের জন্য এসআই সুধন চন্দ্র কে দ্বায়িত্ব দিয়েছি।নিখোঁজদের উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা করছি।