নাজমুল হক ইমু: আশুলিয়ার নরসিংহপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আল্লাহর দান বিরিয়ানি হাউজ থেকে জব্দ করা মাংস কুকুরের ছিল না বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা। এমন রিপোর্ট এসেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম।শনিবার (১১ জুন) রাতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, পুলিশের জব্দ করা মাংস ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানোর ২৫ দিন পর পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। সেখানে জব্দকৃত মাংস কুকুরের নয় বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা। রিপোর্টটি আশুলিয়া থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।যোগাযোগ করা হলে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দিয়েছেন যে মাংসটি কুকুরের নয়। তবে কিসের মাংস সেটি জানায়নি তারা।কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম আজম চৌধুরী বলেন, আমরা মাংসের নমুনা পিসিআর টেস্ট ও মলিক্যুলার টেস্ট করে দেখেছি সেটি কুকুরের মাংস না। তবে কিসের মাংস, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নমুনা দিয়ে আসলে এটি কুকুরের মাংস কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাই আমরা লিখিতভাবে শুধু সেই অংশই উল্লেখ করেছি। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে সেটি বোভাইন বা তৃণভোজী প্রাণী গরু, ছাগল, মহিষ কিংবা ভেড়ার মাংস।এ ব্যাপারে আল্লাহর দান বিরিয়ানি হাউজ দোকানের একটি শাখার মালিক সায়েদ হোসেন বিল্লাল বলেন, সত্যের জয় হয়েছে। আশুলিয়া এবং কাশিমপুরে আমাদের মোট ৭টি শাখা ছিল। কিছু মানুষ চক্রান্ত করে আমাদের ফাঁসিয়েছে। এর ফলে এখন কাশিমপুরের দুইটি শাখা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আর বাকি ৫টি শাখাও প্রায় বন্ধের পথে। জনপ্রিয় হোটেলগুলো এখন ক্রেতাশূন্য। এ ঘটনায় চক্রান্তকারীদের শাস্তি দাবি করে তিনি।উল্লেখ্য, গত ১৫ মে আশুলিয়ার নরসিংহপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আল্লাহর দান বিরিয়ানি হাউজ-৫ নামের একটি হোটেলে কাচ্চি বিরিয়ানিতে কুকুরের মাংস দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে পুলিশ হোটেল মালিক রাজীবকে হেফাজতে নিয়ে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।