বাগেরহাট প্রতিনিধি : আবারও ডিম পেড়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ “বাটাগুর বাসকা”। রবিবার (৬ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে বালুর মধ্যে একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ৩৪টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে ফোটানোর জন্য ইনকিউবেশন (বালুর মধ্যে) রাখা হয়েছে। আগামী ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে বলে জানিয়েছেন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির।
তিনি বলেন, বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির এই কচ্ছপ আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে লালন-পালন করছি। এ প্রজাতির কচ্ছপের বংশ বৃদ্ধির জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর-দারি করছি। এর আগেও আমাদের এখানে বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ডিম দিয়েছে। সেই ডিম থেকে বাচ্চাও ফুটেছে।আজ সকালে করমজল প্রজনন কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে বালুর মধ্যে ৩৪টি ডিম দিয়েছে একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ। এ নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো করমজলে ডিম পারল বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা। সবগুলো ডিমই প্রাকৃতিক উপায়ে ইনকিউবেশন (বালুর মধ্যে রেখে) বাচ্চা ফুটানো হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এসব ডিম থেকে বাচ্চা বের হবে। বর্তমানে করমজল প্রজনন কেন্দ্রে ৪৩৬টি বিলুপ্ত প্রজাতির বাটাগুও বাসকা কচ্ছপ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাটাগুর বাসকা পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমনটি মনে করা হলেও ২০০৮ সালে নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন জলাশয়ে ৮টি বাটাগুর বাসকা পাওয়া যায়। যার ৪টি পুরুষ ও ৪টি স্ত্রী। ওই বছরই প্রজননের জন্য ৮টি বাটাগুর বাসকা গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যে ৯৪টি বাচ্চা দিয়েছিল ৪টি মা কচ্ছপ। ২০১৪ সালে ওই ৮টি বাটাগুর বাসকা ও তাদের জন্ম দেওয়া ৯৪টি ছানা করমজলে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে করমজল প্রজনন কেন্দ্রে দুটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের ৬৩টি ডিম থেকে ৫৭টি বাচ্চা, ২০১৮ সালে দুটি কচ্ছপের ৪৬ ডিম থেকে ২১টি বাচ্চা, ২০১৯ সালে একটি কচ্ছপের ৩২টি ডিম থেকে ৩২টি বাচ্চা, ২০২০ সালের দুটি দুটি কচ্ছপের ৫৬টি ডিম থেকে ৫২টি বাচ্চা ও সর্বশেষ গত বছরের ফেব্রæয়ারী ও মার্চ মাসে ৪টি কচ্ছপ মোট ৯৬টি ডিম দেয়, যা থেকে ৭৯টি বাচ্চা জন্ম নেয়।