মেহেরপুর প্রতিনিধি : কোনো ইশারা, কোনো ওহি নির্বাচনের মাঠে কাজে আসবে না বললেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.) । তিনি আরো বলেন নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে শতভাগ গ্যারান্টি দিচ্ছে। নির্বাচনে কোনো আঁচড় দিলে সেটা কমিশনের গায়ে লাগবে। নির্বাচনের সমতল মাঠ তৈরি করতে নির্বাচনের সাথে জড়িত সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও অনন্যদের ঈমানের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে জনগণ যেসব প্রার্থীকে ভোট দেবেন তারাই নির্বাচিত হবেন। শনিবার দুপুরে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, স্বচ্ছতার প্রতীক হলো ইভিএম পদ্ধতি। ভোটাররা যতক্ষণ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আঙুলের ছাপ না দেবেন ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কেউ তার ব্যালট পেপারে সিল মারতে পারবে না। এ ছাড়া এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। প্রিজাইডিং অফিসারের পেছনেই থাকবে সিসি ক্যামেরা। ভোটকেন্দ্রে কে ঢুকছে আর বের হচ্ছে সেটাও দেখা যাবে ক্যামেরাতে। আর এসব সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা হবে ঢাকা থেকে।নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, এবারই প্রথম সারা দেশে ১৩৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ছয়টি পৌর ও একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে। একটি সুন্দর, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখবে জেলাবাসী। এ জন্য নির্বাচন কমিশন কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ-অনুযোগ শুনতে চায় না।প্রার্থীদের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কিন্তু সংঘর্ষ ও রক্তপাত হবে না। পাল্টাপাল্টি হবে কিন্তু জানমালের ক্ষতি হবে না। জনগণের কাছে গিয়ে তাদের উন্নয়নের কর্মকাণ্ড ও প্রত্যাশা তুলে ধরার জন্য আহ্বান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল প্রার্থীকে সমানভাবে দেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেন তিনি।জেলা প্রশাসক ড. মেহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিতে মতবিনিময়সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. নুরুজ্জামান তালুকদার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী, মেহেরপুর পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলম।স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আবু আনছার।উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও মেহেরপুর পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেদ, মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার দোলন কান্তি চক্রবর্তী, গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মেহেদী হাসান, মেহেরপুর পৌরসভা ও চার ইউনিয়নের মেয়র, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীরা।উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জুন মেহেরপুর পৌরসভা, সদর উপজেলার আমঝুপি, শ্যামপুর, বারাদী ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।