ফিরোজ আহম্মেদ, কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় শিমলা গ্রামে সুলতান মাহামুদ মিনি(৩৮) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ ৫ নং সিমলা রোকন পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কালীগঞ্জ জমি রেজিস্টার অফিসের দলীল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির চৌধুরির সন্ত্রাসী বাহিনি ।এ ব্যাপারে সন্ত্রাসী হামলার শিকার আহত সুলতান মাহমুদ মিনির বড় ভাই মাহাবুব জানান এ ধরনের ঘটনা ৫নং সিমলা রোকনপুর ইউপির চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী নাসির চৌধুরীর পোষা সন্ত্রাসী বাহিনি করেছে,এরা আমার পরিবারের সবাই মেরে দিবে এমন হুমকি ধামকি গত ২ বছর ধরে নিয়মিত দিয়ে আসছে।তার জন্য আজ আমরা গ্রাম ছাড়া।সে দূর্নীতিবাজ দলীল লেখক,তার পূর্বের কিছুই ছিলনা, আর এখন দূর্নীতিবাজি করে কোটিকোটি টাকা ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ নামে বে নামে শত বিঘা জমির মালিক বনে গেছে।এসব দূর্নীতির কথা আমরা প্রকাশ করার পর থেকে আমাদের নামে নানান ধরনের মিথ্যাকথা, মিথ্যা মামলা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনি দিয়ে আমাদের মেরে ফেলবে এমন ভয়ে আমরা চলাচল করি।আমার ভাই এজন্য কালীগঞ্জ থানার তদন্ত ওসিকে আমাদের গ্রামের মাঠের লিচু বাগানে লিচু খেতে ও দেখতে গিয়েছিল।তারপরও তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনি পুলিশের সামনে আমার ভাই মেরে দিবে এমন ধরনের হুমকি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মাহবুর আরো বলেন নাসির চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়ে দূর্নীতি করে কোটিপতি,এজন্য সে বলে আমার দূর্নীতিবাজ নিয়ে তোরা দুদুকে অভিযোগ করিস,তোদের দুনিয়াতে বাচিয়ে রাখবো না। আহতের ভাই মাহাবুব বলেন,তার কোন বৈধ স্ত্রী নেই।তার বড় বৌকে ডিভস্ না দিয়ে ছোট শালীকে নিয়ে অবৈধ সংসার করছে।তার টাকা আছে এজন্য বিভিন্ন জায়গার নামে বেনামে জমি বড়বড় ভবন তৈরি করেছে।এজন্য তার পারিবারিক ব্যাপারে মানুষ যখন এসব জেনে যায়, যে শালি বৌ নিয়ে সংসার করছে, সেটাও আমাদের দোষ দিয়ে লাগাতার মেরে দিবে এমন কথা বলে।তায় তার ভয়ে আমার পরিবারের লোকদের নিয়ে কালীগঞ্জ শহরে থাকতে হচ্ছে। মাঠে জমি থাকলেও চাষ করতে পারি না, সন্ত্রাসী বাহিনির ভয়ে।তারপরও আমার ভাই ওদের হাত থেকে রক্ষা পেল না।২৬ শে মে বৃহস্পতিবার আনুমানিক সন্ধ্যায় ৭ টার দিকে বড় শিমলা গ্রামের হাইস্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সুলতান মাহামুদ মিনি উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের মালীতার ছেলে। সুলতান মাহামুদ মিনি চিকিৎধীন অবস্থায় ঘটনা সম্পকে বলেন বৃহস্পতিবার বিকালে গত ইউনিয়ন নির্বাচনে নাসিরের প্রতিদন্ধি প্রার্থী হয়েছিল রহমত আলী,তার ছেলে রফিকুল ইসলাম আমার বন্ধু হয়।তায় তার দাওয়াতে বাগানে দুটি মোটরসাইকেলে কালীগঞ্জের ওসি তদন্ত নজরুল ইসলাম সহ ৪ জন ২টি মোটরসাইকেল করে লিচু খেতে যায়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে কালীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত নজরুল ইসলাম ভাই ও তার সাথে আরও এক পুলিশ সদস্য ছিলেন। আমি ও রফিকুল লিচু খেয়ে ফিরে আসার পথে বড় শিমলা হাই স্কুলের সামনে কয়েকজন যুবক আমার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। সে সময় হাসেম আলীর ছেলে ইউনুস আলী ও মহিকে আমাকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়।তখন বেশ কয়েকজন অতর্কিতভাবে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মেরে ফেলবে বলে এবং তাদের লাঠিসোঁটার আঘাতে আমার দুই হাত ও পা ভেঙ্গে যায়। এরপর স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে যশোরে রেফার্ড করা হয়।আমি এখন যশোর এ চিকিৎসাধীন রয়েছি।কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, বিকালে বড় শিমলা গ্রাম থেকে লিচু খেয়ে ফেরার পথে কয়েকজন সুলতান মাহামুদ মিনির মোটরসাইকেল এর গতিরোধ করে মারপিট করতে থাকে। প্রথমে ব্যাপারটা আমি বুঝে উঠতে পারি নি।এরপর যখন দেখি সত্যি সত্যি হামলার ঘটনা ঘটছে তখন মোটরসাইকেল থেকে নেমে পুলিশ পরিচয় দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম মোল্লা জানান,গতকালকের মারামারির ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেনো না ঘটে সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে।