মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ বর্তমানে শহর-বন্দর ও গ্রামের হাটবাজারগুলোতে রয়েছে এসি ও নন-এসি সেলুন। কালের বিবর্তনে আজ পুরুষদের জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছে পারলারের। সেসব সেলুন ও পারলারে চুল ও দাড়ি কাটার জন্য রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মেশিন। তবে কালের এই বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের চুল ও দাড়ি কাটার চিত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য অনেক পেশার মতোই নরসুন্দরের এই পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও কখনও কখনও গ্রামাঞ্চল হাটবাজারে চোখে পড়ে ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরের কর্মযজ্ঞ।ভ্রাম্যমাণ এসব নরসুন্দর চুল কাটার বা ছাঁটার যন্ত্রপাতি নিয়ে বসেন গ্রামীণ হাটবাজার গুলোতে। হাটবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারাই নরসুন্দরদের ‘কাস্টমার’।মঙ্গলবার  সর্বোত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের শিবচন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়য়ের সামনে জয়গুনজোত এলাকায় চোখে পড়ে ভ্রাম্যমান নরসুন্দরের। কাছে গিয়ে দেখি কাস্টমারদের পিঁড়ি বা টুলে বসিয়ে চুল ও দাড়ি কাটছেন তিনি। চুল ও দাড়ি কাটার দৃশ্যটা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই নরসুন্দরের অনুমতিক্রমে একটি পিক তুলে নিলাম।নরসুন্দরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক যুগ ধরে এভাবেই দাড়ি ও চুল কাটছেন তিনি। তাঁর নাম সুধির চন্দ্র শীল। তিনি দিনাজপুর বিরল উপজেলার ১০ নং আনিপুকুর ইউনিয়নের রাগুন গ্রামের মৃত ইয়ারু চন্দ্র শীলের ছেলে। তাঁর ৬ ছেলে ৩ মেয়ে স্ত্রী বেঁচে নেই। তাঁর এক ছেলে পুলিশের চাকরি করেন আরেক ছেলে নৌ বাহিনীর নাপিতের চাকরিতে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভদ্রেশ্বর এলাকার বার্ণির বাজার নামক স্থানে বসবাস করছেন। প্রতিদিন সে ভজনপুর ভেরসা নদী পারি দিয়ে ওই এলাকার স্কুলের সামনে থাকা ডালিম গাছের নিচে বসেন। জয়গুনজোত শিবচন্ডি প্রাইমারী স্কুলের সামনে থাকা দোকানদারদের নিকট প্রয়োজনে আসা-যাওয়া মানুষজন তাঁর কাস্টমার। তিনি চুল কাটতে ২০-৩০ টাকা এবং শেভ বা দাড়ি ঠিক করতে ১৫-২০ টাকা নেন।
চুল কাটতে আসা ওই এলাকার আব্দুল হাই বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে হাটে এসে এই ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের কাছে চুল কাটতেন। এখন তিনি নিজেই ও তাঁর সন্তানের নাতিদের এনে চুল কাটাচ্ছেন।’তিনি বলেন, ‘আমি মধ্যবৃত্তের মানুষ। সেলুনে চুলদাড়ি কাটাতে গেলে ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাগে। আর এদের কাছে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ টাকায় চুল ও দাড়ি কাটানো যায়। সেলুন আর এদের কাজের মান প্রায় সমান।’একই এলাকার বাসিন্দা মকবুল বলেন, আমাদের এলাকার বেশিরভাগ মানুষই ভ্রাম্যমাণ এই নরসুন্দরদের দিয়ে চুলদাড়ি কাটান। তাদের কাছে অনেক কম টাকায় চুলদাড়ি কাটানো যায়।নরসুন্দর সুধির জানান, ‘এ পেশা তাঁর দাদার ছিল। দাদার মৃত্যুর পরে বাবাও ছিলেন এ পেশায়। বাবার কাছ থেকেই তাঁর এ পেশার হাতেখড়ি। বাবার মৃত্যুর পওে সেই কিনা এই হাল ধরেছে। তিনি এই পেশাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, প্রতিদিন চুল ও দাড়ি কেটে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। এ আয় দিয়েই সংসার চালান তিনি।