ফিরোজ আহম্মেদ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : শীত মৌসুমের খেজুর রস,গুড় ও পাটালি না হলে যেন একদমই জমে না। শীতে জুবুথুবু তবুও খেজুর গাছ কেটে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে গাছ থেকে রসে ভরা মাটির কলস নামানোর দৃশ্য এখন ঝিনাইদহে প্রতিটি এলাকায়। যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে গুড় ও পাটালি। সুস্বাদু এই গুড় ও পাটালি দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন পদের শীতের পিঠা। শীত জেঁকে বসার ফলে অনেক কষ্ট করে রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা। কিন্তু কিছু অসাধু গাছি ও ব্যবসায়ীরা খেজুরের গুড় পাটালি তৈরি করছে নানা রকম বিষাক্ত কেমিক্যাল, চিনি,আটা,রং ফিটকেরি ও চুন দিয়ে । তাই ঝিনাইদহের এই ঐতিহ্য খেজুরের গুড় পাটালির ভালো দাম পাচ্ছে না বর্তমানে গাছিরা। আসল খেজুরের গুড়-পাটালি হলে গাছিরা ও ব্যবসায়ীর ক্রেতারা কিনতে গেলে দাম হাঁকাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
এই দাম শুনে সাধারণ খুচরা ক্রেতারা তখন বিক্রেতার কাছে আগেই প্রশ্ন করে বসছে আসল নাকি নকল, বিক্রেতারা বলছে ১০০% খাটি হবে,এরপর ক্রেতা কিনে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার থেকে তৈরীকৃত পিঠা পায়েস খেতে লাগছে না আসল খেজুর গুড়ের স্বাদ গন্ধ।
গুড়ের বাজার ঘুরে দেখা গেছে,গাছিরা খেজুরেরর পাটালী এবং দানা ও ঝোলগুড় মাটির কলস (ভাড়ে) ভরে বিক্রি করতে আসে বাজারে।পাইকারি ক্রেতারা গুড়বিক্রেতার কাছে এসে একটি বাঁশের চটি গুড়ের ভাড়ে ডুকিয়ে দিলো,কারণ ভিতরে কি ধরনের গুড় আছে বোঝার জন্য আসল নাকি ভেজাল আছে।এবার দরদাম, পাইকার দাম শুনছে।
এসময় কালীগঞ্জে উপজেলায় মধুগঞ্জ বাজারের নিমতলা বাসস্ট্যান্ডে নামক স্থানে প্রতি সপ্তাহে দুইদিন শুক্রবার ও সোমবারে গুড়ের পাইকারি হাট বসে ভোর ৬টা থেকে দুপুর পর্যন্ত।তার আলোকে দৈনিক আমাদের নতুন সময় এর প্রতিনিধি ফিরোজ আহম্মেদ ৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে খেজুর গুড় ও পাটালিগুড়ের দাম নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে দেখতে পায় বিক্রি করতে এসেছে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গাছিরা গুড় বিক্রির জন্য এসেছে ভ্যানে, বাইসাইকেলে ও মোটরসাইকেলে। দাডিঁয়ে আছে বিক্রির জন্য অনেক সময় ধরে,কিন্তু পাইকার ক্রেতারা কম থাকায় ভালো দাম না পাওয়ায় বিক্রি করতে বেশ ভোগান্তি হচ্ছে গাছিদের।
সরেজমিনে দেখা গেলো সদর উপজেলার গান্নাা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আফিল উদ্দীন নামের এক যুবক তার বাইসাইকেলে করে খেজুরের দানাগুড় দুই ভাড় বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছে, এক পাইকার তার কাছে দাম শুনলো প্রতি(৮/৯/১০ কেজি) ভাড় কত, তখন যুবক আফিল জানালো ১ হাজার টাকা, পাইকার দেখে বললো গুড় চিনি,চুন ও ফিটকেরি দিয়ে তৈরি মনে হচ্ছে।
তখন এ ব্যপারে পাইকারের জানতে চাইলেন প্রতিবেদক গুড়ে চিনি,চুন ফিটকিরি আছে এটা বুঝলেন কিভাবে, তিনি উত্তর দিলেন আমি পাইকারি গুড় ব্যবসায়ি, গুড় দেখলে কিছুটা হলেও বুঝতে পারি আসল না ভেজাল আছে।তিনি বলেন বর্তমানে প্রতিকেজি চিনির দাম ৭৫/৮০ টাকা।
আর আসল খেজুরের পাটালী এক কেজির দাম ৩০০/৩৫০ টাকা , দানাগুড় ২ শত থেকে ৩ শত টাকা ও পাতলা ঝোলগুড় ১৫০টাকা থেকে ২ শত দরে আমরা বিক্রি করতে পারছি।
তবে খুচরা ক্রেতারা কিনতে এসে আগেই প্রশ্ন করছে খেজুরের গুড়পাটালি আসল কিনা? তখনই বিক্রির জন্য বলা হচ্ছে ১০০%আসল হবে,
ক্রেতা কিনে বাড়িতে নিয়ে গেলে সেটা থেকে তৈরি পিঠাপুলি খেলে ও সংরক্ষণের জন্য ফ্রীজে রাখলে অনেকটা বুঝতে পারছে আসল নাকি ভেজাল,তবে বেশিরভাগ খেজুরেরগুড় এখন ভেজাল হওয়ার কারণে বর্তমানে দেশের ঐতিহ্য খেজুরের গুড়পাটালী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে খুচরা ক্রেতারা,এজন্যই কিনতে হচ্ছে খুবই দেখেবুঝে ।
অতপর গুড় পাইকার দাম বললো প্রতিভাড় ৭ শত টাকা।
তখন দামেদরে না হওয়ায় পাইকার গুড় কিনতে পারলো না ও বিক্রেতা বিক্রি করতে পারলো না।এরপর আরো দুএকজন পাইকার দাম শুনলো,পরে আরো দাম বললো, কিন্তুু বিক্রেতা দামে দিলো না।এমন ভাবে অনেক গাছিরাই মাটির তৈরি (কলস) ভাড়ে গুড় ভর্তি বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছে, দাম কম হওয়ায় কারণে বিক্রি না করে এক-দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
গুড়ের চাহিদা কম এবং গুড় পাটালির দাম কম হওয়ায় কারণে গাছিরা ইচ্ছা হারাচ্ছে খেজুরের রস গুড় সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে। দেশের ঐতির্হ্য খেজুর গুড় ভেজাল হওয়ার কারণে ভালো দাম পাচ্ছেনা ঝিনাইদহের গাছিরা,আসল না ভেজাল ভাবনায় ক্রেতারা।