ফিরোজ আহম্মেদ,কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ বিসিকে গ্যাস সংযোগ না থাকায় চালু হচ্ছে না অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যে কয়েকটি সচল রয়েছে, সেগুলোও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধের পথে। এতে প্রতি মাসেই লাখ লাখ টাকার লোকসান হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। সমস্যা সমাধানে দ্রুত বিসিকের সম্প্রসারণ ও গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের।
ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের পাশে প্রায় ১৬ একর জমিতে গড়ে ওঠে ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরী। কিন্তু সব প্রয়াস মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্যাস সংযোগ না থাকায়।
হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে বাড়তি খরচে উৎপাদন চালিয়ে গেলেও গ্যাসের সংযোগ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের। এতে প্রতি মাসেই বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
এ বিষয়ে তারা বলেছেন, বিসিকে যতটুকু জায়গা দরকার ততটুকু নাই। সরকার যদি এ জায়গা সম্প্রসারণের করে উদ্যোগ নেয়, তাহলে এখানে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা তেমন লাভবান হব না। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরীতে গ্যাস সংযোগ না থাকা ও জায়গা স্বল্পতার বিষয়ে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস বলেন, ঝিনাইদহ বিসিক শিল্প নগরীতে গ্যাসের সংযোগটি হলে, যারা উদ্যোক্তা আছেন তাদের জন্য ভালো হবে। পাশাপাশি আমাদের ঝিনাইদহ জেলাতে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাদের এখন বিসিক শিল্প নগরীতে জায়গার প্রয়োজন। কিন্তু বিসিক শিল্প নগরীতে যে পরিমাণ জায়গা আছে, এতে নতুন করে আরও প্লান্ট বরাদ্দ দেওয়া বিসিকের পক্ষে সম্ভব না।
এদিকে বিসিকের সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া কথা জানিয়ে ঝিনাইদহ বিসিকের বিসিক জেলা কার্যালয় উপব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান জানান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক অর্থ দাবি করায় সংযোগ নেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেছেন, গ্যাস সংযোগকারীদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। তারা যে পরিমাণ অর্থ চাচ্ছেন, তা দিয়ে আমাদের পক্ষে গ্যাসলাইন নেওয়া সম্ভব না।
জেলা বিসিকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ১০১টি প্লটের সবই বরাদ্ধ থাকলেও শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র ৪৬টি।