মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়ায় উপজেলায় জমে উঠেছে পেঁয়াজের চারার হাট। চারা রোপণের মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই হাট জমে তেঁতুলিয়ায়। উপজেলার ভজনপুর ইউপির ভজনপুর বাজারে এই বেচাকেনার হাট জমতে দেখা যায়। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও রোববার এই হাটবার। হাটবারের দু’দিনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পেঁয়াজের চারার হাট। বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি ও দেশি জাতের চারা বিক্রি হয় এ হাটে। পেঁয়াজের চারা অর্থনীতিতে বদলে দিয়েছে তেঁতুলিয়ার অনেককেই। পেঁয়াজের চারা বিক্রি করে এই এলাকার চাষিরা এখন লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার পেঁয়াজের চারা চাষিরা হাটে নিয়ে যাচ্ছেন, আর তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, এ বছর তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন হাটে কৃষকরা পেঁয়াজের চারা সংগ্রহ করতে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার চারার দাম নেমেছে অর্ধেকে, কৃষকের মুখে ভরে উঠেছে হাসি। আর ব্যবসায়ীদের মুখে নেমে এসেছে দুঃখের ছায়া। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের তেমনটি লাভ না হওয়ায় অনেকেই বলছেন চারার পিছনে অর্থের টাকা তুলতে হিমশিম খেতে হবে। লক্ষ্য করা গেছে, লাভের আশায় এই চারা বিক্রি করতে গ্রামে এসেও জমি থেকে চারা কিনে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এবার এক মোটায় এক হাজার পেঁয়াজের চারা বিক্রি হচ্ছে সর্বনি¤œ ৭০টাকা এবং সর্বোচ্চ ১১০ থেকে ১২০ টাকা। গত বছর এই চারা বিক্রি করা হয়, সর্বনি¤œ ১৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা।
উপজেলার শালবাহান হাটে শনিবার ও বুধবার এবং ভজনপুর হাটে বৃহস্পতিবার ও রোববার এই দুই হাটে গ্রামের চাষিরা পেঁয়াজের চারা নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন।
উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের নাওয়াপাড়া গ্রামের চারা বিক্রেতা মোঃ মইনুল জানান, তিনি সাড়ে ২২শতক জমিতে পেঁয়াজের চারা লাগিয়েছেন। গতবার ওই একই জমিতে চারা লাগিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেন। এবার চারার দাম গতবারের তুলনায় অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, চারার পিছনে যে টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হবে। লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। গতবার যেই চারা বিক্রি করছেন ১৫০ থেকে শুরু করে ২৫০টাকা এখন সেই চারা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে শুরু করে ১১০টাকা দামে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, শীতকালীন পেঁয়াজের জমি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২১৫ হেক্টর নির্র্ধারণ করা হয়েছে। শীতকালীন পেঁয়াজের মধ্যে রয়েছে বারি পেঁয়াজ-১, বারি পেঁয়াজ- ৪ ও বারি পেঁয়াজ- ৬। রবি মৌসুমে চাষের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর বা ফেব্রুয়ারি-মার্চ (মাঘ-ফাল্গুন) কৃষকরা শীতকালীন এই বীজ তলায় বীজ বপন করবেন। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শীতকালীন এই পেঁয়াজে কৃষকেরা সম্ভাব্য ফলন হিসেবে প্রতি হেক্টরে ১৬টন পেঁয়াজ পেতে পারেন।