তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধিঃ কৃষক স্বামী আর দুই সন্তানকে নিয়ে সুখেই কাটছিল নারগিস বেগমের সংসার। ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক মেয়ে তামান্না ও ৭ বছর বয়সী ছেলে তামিমকে নিয়ে খুব সুন্দর সাজানো সংসার ছিল তার।কিন্তু নারগিসের জীবনকে মত্যুর মুখে ফেলে দিয়েছে মরণব্যাধি ক্যান্সার।সে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইহাটি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমানের স্ত্রী। বর্তমানে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ঢাকা সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি আছেন।পরিবার সুত্রে জানাযায়,চারমাস আগে হঠাৎ করে মুখমন্ডল বেকেঁ যায় নারগিসের। প্রথমত স্থানীয় ভাবে গ্রাম্য ডাক্তার দেখান তিনি। গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসায় কোন উন্নতি না হলে পারে তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরনের সহয়াতায় সাতক্ষীরায় মেডিকেলে ভর্তি করেন । নারগিসের অবস্থা দিন দিন খারাপ হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বাবার বাড়ী আশুলিয়ায় পাঠিয়ে দেন তিনি। তারা প্রথমে নারগিসকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^ বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন।সেখানে পরীক্ষা করে দেখেন কানের ভিতরের হাড়ে পচন ধরেছে। ডাক্তাররা নারগিসকে কান অপরেশন করার পরামর্শদেন।কান অপরেশন করার জন্য ঢাকা শের-ই-বাংলা নগরে ইএনটি এন্ড হেড-নেক ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন।গত ১৫ দিন আগে সেখানে নারগিসের কানের অপরেশন করা হয়। কান অপরেশনের পরেও কোন উন্নতি না হওয়ায় আরো পরীক্ষার নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানতে পারেন নারগিস ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে নারগিস ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ঢাকা সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি আছেন।স্বামী মিজানুর রহমান বলেন,তার স্ত্রী ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য বর্তমানে ঢাকা সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি আছেন। এনাম মেডিকেলের ডাক্তার বলেছেন নারগিসকে বাঁচাতে দ্রুত অপরেশন করে রেডিও থেরাপী ও কেমো থেরাপী দিতে হবে। স্ত্রীর চিকিৎসায় হাসপাতালের খরচ রেডিও থেরাপী ও কেমো থেরাপী দিতে ৮-১০ লাখ টাকা দরকার। হাতে ও জমানো টাকা,জমি যা ছিল সব তার চিকিৎসায় ব্যয় হওয়ায় এখন আমার হাত শূন্য। এত টাকা আমি পাবো কই? এখন আপনারাই আমার শেষ ভরসা, আমার বউডারে বাঁচান। আমার ছেলে মেয়ে দু’টো মা ছাড়া এতিম হয়ে যাবে। দুই সন্তান সারাক্ষণ মায়ের জন্য কাঁদে। কিন্তু তারা তো এখনো জানে না, তাদের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত। এসব কথাগুলো বলার সময় কণ্ঠ ভার হয়ে আসছিল মিজানুরে।
এদিকে পরিবারে একমাত্র উপার্জনের এই ব্যক্তির এমন দশায় বন্ধ হতে চলেছে প্রথম ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ছেলেমেয়ে লেখাপড়া। তাই স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রসংগত,যেখানে প্রতিদিন পত্রিকার পাতা জুড়ে নারী নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনের সংবাদ থাকে, সেখানে স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা সত্যিই হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। আমরা কি পারি না, অসহায় স্বামী মিজানুরের স্ত্রীকে বাঁচাতে সাহায্যর হাতটি বাড়িয়ে দিতে! সবাই একটু সাহায্যর হাত বাড়ালে হয়তো মৃত্যুর মুখ থেকে নারগিসকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নারগিসের চিকিৎসায় সাহায্য পাঠাতে চাইলে স্বামী মিজানুর রহমান -বিকাশ নাম্বার-০১৯১৭২১১৯২৫ (পার্সোনাল) ।