নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সেনবাগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোট চলাকালে এশফাকুল হক মান্না আলিম মাদ্রাসাকেন্দ্র থেকে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেগুলো বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভোট শুরুর পর থেকে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেনি অনেক ভোটার। ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। ভোট শুরু পর থেকে কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে আসতে থাকে ভোটাররা। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি থাকলেও ভোটগ্রহণ ছিল ধীরগতিতে। আর তাতে অস্বস্তিতে পড়েছেন ভোটাররা। বেশি বিপাকে পড়েছেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ নারী-পুরুষরা।
কেন্দ্রের পাশে বহিরাগতদের অবস্থান স্থানীয়দের চাইতে বেশি বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এশফাকুল হক মান্না আলিম মাদ্রাসাকেন্দ্রের একটি বুথে প্রবেশ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ সময় তারা সহকারী প্রিসাইডিংয়ের কাছ থেকে ব্যালট পেপারের তিনটি বই নিয়ে তাতে সিল মেরে বক্সে ঢোকায়। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ধাওয়া করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কৃষ্ণ গোপাল রায় বলেন, দুজন মেম্বার সমর্থক কর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে ৩৫টি ব্যালট নিয়ে সিল মেরে বক্সে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। পরে তাদের ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়। জব্দকৃত ব্যালটগুলো বাতিল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ছয় প্রার্থী, সাধারণ সদস্যপদে ৯টি ওয়ার্ডে ৪৪ এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইউনিয়নটিতে মোট ভোটার রয়েছে ২২ হাজার ৯৫৮ জন, যার মধ্যে ১১ হাজার ৮৪৮ পুরুষ ও ১১ হাজার ১১১ জন নারী ভোটার রয়েছেন।