ফিরোজ আহম্মেদ ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রি পাওয়ার দাবিতে আন্দোলনের ৯৪তম দিনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহা-সড়ক অবরোধ করে তারা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ওই সড়কে সকল যান চলাচল। সড়ক অবরোধের কারনে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ চলাচলকারীরা।খবর পেয়ে ছুটে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) রথীন্দ্রনাথ রায়, সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান ভুইয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম শাহীন, সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের অনুরোধে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় এবং প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে তাদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে এক মত বিনিময় সভায় মিলিত হন। সজিব নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ডিভিএম ডিগ্রী প্রদানের কথা থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিএসসি ভেট সাইন্স এন্ড এএইচএস ডিগ্রী প্রদান করার চেষ্টা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের চাকরিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এ কারনে তারা ডিভিএম ডিগ্রীর দাবিতে মাসের পর মাস আন্দোল করছেন। গত ১২ জুন থেকে তারা ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করলেও দাবী পূরনে মন্ত্রণালয়ের সাড়া মেলেনি। এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা গত ১৪ জুন প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ শুখেন্দু শেখর গায়েনকে কলেজে ২২ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। তবে দাবী পূরণ না হওয়ায় আবারও আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ আতাউর রহমান ভূইয়া বলেন, আমরা যারা শিক্ষক আছি তারা সবাই প্রাণী সম্পদ বিভাগের অধীন কিন্তু শিক্ষার্থীরা আছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। তারা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হতে চায়। মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের ভিপি মুরাদ বিশ্বাস ও জিএস সজিব হাসান জানান, মাসের পর মাস আমরা আন্দোলন করছি, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে পারিনি। রাস্তা অবরোধ করলে প্রশাসনের লোকজন আসেন, তারা আশ্বাস দিয়ে চলে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তির সময় বলা হয় ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রি দেয়া হবে। কিন্তু পরে বিএসসি ভেট সাইন্স এন্ড এএইচএস ডিগ্রী প্রদানের কথা বলা হচ্ছে। এই ডিগ্রী প্রদান করা হলে আমাদের শিক্ষা জীবন বিপন্ন হবে। কোথাও চাকরী হবে না।