অধিকার আদয়ে নারীদের রাজনীতি সচেতন হতে হবে

প্রকাশিত: ০৪-০৩-২০১৭, সময়: ১৯:৩৪ |
Share This

শেখ মারুফা নাবিলা, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক। দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। বাংলাদেশ মেইল ইয়ুথ লিডারশিপের সাথে দীর্ঘ আলাপে উঠে আসে তার জীবনের বিভিন্ন দিকের গল্প।

শেখ মারুফা নাবিলা জন্মগ্রহণ করেছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর।প্রাথমিক জীবন শেষ করেন ভারতেশ্বরী হোমস থেকে। মাধ্যমিক শেষ হয় মির্জাপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও উচ্চমাধ্যমিক ঢাকার হলিক্রস কলেজ থেকে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে সম্মান শেষ করেছেন। ছাত্রজীবনে ক্লাস ফাইভ ও এইটে টেলেন্টপুলে বৃত্তি, এসএসসি ও ইন্টারে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করেছেন কীনা জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুলে থাকাকালীন প্যারেড কমান্ডার ছিলাম। সেই থেকেই নেতৃত্বদানের স্পৃহা কাজ করেছিলো।এছাড়াও রচনা প্রতিযোগীতা, বক্তৃতা বির্তক কবিতা আবৃত্তি এসবের প্রতি ঝোঁক ছিলো।

সেসব স্মৃতি এখনও মনে আছে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,” হ্যাঁ,এখনও মনে আছে ক্লাস এইটে থাকাকালীন উপজেলায় রচনা প্রতিযোগীতায় প্রথম হই। খুব আনন্দ লেগেছিলো। এরপরের বারও প্রথম স্থান অর্জন করি। বির্তক প্রতিযোগীতায়  টাঙ্গাইল জেলায় প্রথম স্থান ও ময়মনসিংহ জোনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলাম। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস জন্মায় তখন থেকেই। নিজেকে নতুন করে চিনতে শিখি।”

ছোটবেলায় কোনো পেশার প্রতি আগ্রহ ছিলো কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম ডাক্তার হবো। রোগীদের সেবা করবে। গ্রামের লোকদের পাশে থাকবো। স্কুল কলেজে থাকতেই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। মাঝখানে আবার কলেজের বাংলা শিক্ষিকা আফরিন মিসকে দেখে বাংলায় উদ্ধুদ্ব হই। তবে এখন সমাজ কল্যাণ নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে।

দেশপ্রেমের দীক্ষা কীভাবে আসলো জানতে চাইলে তিনি জানান, বাসায় প্রতিবছর বঙ্গবন্ধুর নতুন ছবি কেনা হতো। সেই সুদর্শন অবয়বের দীর্ঘকায় মানুষটি শিশুমনেই স্থান করে নেয়। এরপর বাবার মুখে এই মহামানবের গল্প শুনে তাঁর আদর্শে অণু্প্রাণিত হন। বাবাই মূলত তাঁর দেশপ্রমের দীক্ষাদার।

ছোটবেলায় বাবার মুখে বঙ্গবন্ধুর সত্য ঘটনাপ্রবাহ শুনতে শুনতে এতটাই অনুরক্ত হয়ে ওঠেন যে, একবার প্রাইমারি স্কুলে থাকাকালীন ও বাবাকে বলে বসেছিলেন, বাবা বঙ্গবন্ধুকে কী একবার দেখতে পারবোনা?  তাঁকে যদি একবার দেখতে পারতাম?

ছাত্র-রাজনীতিতে আগ্রহ জাগলো কখন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়েই লেখাপড়া করি। বিভিন্ন মেলা ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করতাম। কলেজ লাইফেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বই পড়েছি, একদিন টিভিতে সুবৃহৎ মানুষটার অবয়ব দেখে ভাবলাম তার আদর্শের রাজনীতিতে আমি প্রবেশ করবো।প্রথম বর্ষে থাকাকালীন ১৩ সালে গণজাগরণ দেখে মনে রাজনীতিক সাহস আসে। মেধাক্রমে হলে সিট পাই। জয় বাংলা স্লোগান আমায় মোহগ্রস্ত করে।সেসময় বাবার স্মৃতিচারণ করে করে তিনি বলেন, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সুযোগ পাই তখন বাবা খুব উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, “তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি তুমি মেধা ও রাজনীতির মাধ্যমে নিজেকে আলোকিত করবে।”

 

কার হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন,”তৎকালীন হল ছাত্রলীগ নেতা জাকিয়া জামান নিপার হাত ধরেই  হলের রাজনীতিতে প্রবেশ করি বাবা এসময় মাঝে মাঝে রাজনীতিক অনুষ্টানে যেতে উদ্বৃদ্ধ করতেন। ”

ফার্স্ট ইয়ারে থাকাকালীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর অনুভুতি কেমন ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন,”কখনই ভাবতে পারিনি হলে ১ম বর্ষে থাকতেই হলের সাধারণ সম্পাদক হবো। বাবা সর্বপ্রথম উইশ করেন। সে স্মৃতি বলে বোঝাবার নয়।”

ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি রক্তদানের সংগঠন বাঁধনের সাথেও যুক্ত আছেন তিনি।

নারীদের রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি বলেন,রাজনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ত হতে হবে। যারা রাজনীতি সচেতন না তাদের সমাজে বিব্রত হতে হয়। যে মেয়েরা রাজনীতি সচেতন সে আর কিছু না পারুক অন্তত প্রতিবাদ করতে পারে। তাদের অধিকার টুকু আদায় করতে পারে। অধিকার আদায়ে নারীদের রাজনীতি সচেতন হতে হবে।

রাজনীতি বা দেশকে সর্বোচ্চ দেয়াই আমাদের ব্রত হোক। দেশের সেবা ও আর্দশ চর্চা করতে সবাই রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই। তবে রাজনীতি সচেতন ও দেশকে ভালোবাসার মাধ্যমেই আত্মতৃপ্তি অর্জন করা সম্ভব।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে