তালায় জলমহল ইজারা থেকে প্রকৃত মৎসজীবিরা বঞ্চিত হওয়ার আশংকা !

প্রকাশিত: ০৬-০৪-২০২১, সময়: ০৪:৪৩ |
Share This

তালা (সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা তালা উপজেলার বিভিন্ন জলমহল ইজারা নিয়ে অবৈধ তদ্ববিরের কারণে প্রকৃত মৎসজীবিরা ইজারা বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় রয়েছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী অ-মৎস্যজীবিদের সমন্বয়ে গঠিত সমিতির দখলে চলে যাচ্ছে জলমহল গুলি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবছর ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানালেও দৌরাত্ব থামেনি অ-মৎস্যজীবি প্রভাবশালী মহলের ।
সম্প্রতি তালা উপজেলার হরিহর নগর মৌজার পাকুড়িয়া নদী (বদ্ধ) জলমহালের নাম উল্লেখ করা হয় । নিয়মানুযায়ী আবেদন পত্র সংগ্রহ ও জমা দেন “শাহপুর মৎসজীবি সমবায় সমিতি লিঃ” , যা ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত, নিবন্ধিত এবং অদ্যাবধি শতভাগ সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে । এছাড়া “কপোতাক্ষ মৎসজীবি সমবায় সমিতি” ও “দক্ষিন শাহপুর পূর্ব পাড়া মৎসজীবি সমবায় সমিতি” ও সিডিউল জমা দেন । কিন্তু মৎসজীবি নয়, জেলে নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র প্রদান প্রকল্পের কোন নিবন্ধন কার্ডও নেই এমন একটি সংগঠন দক্ষিন শাহপুর পূর্ব পাড়া মৎসজীবি সমবায় সমিতির অনুকুলে পাইয়ে দেওয়ার জোর তদ্ববির চালাচ্ছেন একটি প্রভারশালী মহল। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকার বংশগত মৎস্যজীবিরা।
ভুক্তভোগী শাহপুর মৎসজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি নগেন মন্ডল জানান, গত ২৩ মার্চ’২১ (৯ চৈত্র’২৭) জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা মহোদয় ৩১.৪৪.৮৭০০.০০৬.১০.০০৪.২১-৭৬২ নং স্মারকে সাতক্ষীরা জেলার ৫ টি জলমহালের জন্য পত্রিকার মাধ্যমে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ।
উল্লেখ্য যে, দক্ষিন শাহপুর পূর্ব পাড়া মৎসজীবি সমবায় সমিতির সদস্যদের অধিকাংশই মৎসজীবি নয়, তাদের জেলে নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র প্রদান প্রকল্পের কোন নিবন্ধন কার্ডও নেই । দক্ষিন শাহপুর পূর্ব পাড়া মৎসজীবি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে শালিখা নদী জলমহাল ইজারার টাকা খেলাপি ও সার্টিফিকেট মামলা রয়েছে, যা জলমহাল ইজারা পাবার ক্ষেত্রে ১৩ নং শতেরপরিপন্থী । এছাড়াও কপোতাক্ষ মৎসজীবি সমবায় সমিতি, দক্ষিন শাহপুর মৎসজীবি সমবায় সমিতি এবং পাকুড়িয়া মৎসজীবি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সহকরী জজ (তালা) আদালতে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা (দেং-১৯/২০১৯) রয়েছে । উক্ত মামলায় বাদী দরখাস্ত না-মঞ্জুর করিলে এপিপি পক্ষ মিস আপিল ২৯/২০ মোকদ্দমা দাখিল করেন । শুনানী অন্তে ৩/২/২১ পর্যন্ত ঐ সমিতিগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করেন আদালত, যা পরবর্তিতে ২৪/৪/২১ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন ।
এদিকে সমিতির প্রাক্তন সভাপতি নিমাই সরকার ও অন্তর্বর্তিকালীন সভাপতি নগেন মন্ডল জানান, শাহপুর মৎসজীবি সমবায় সমিতি সর্বোচ্চ ইজারা মুল্যে সিডিউল জমা দিলেও অনিয়ম, দুর্নীতির দায়ে সরকারী চাকরী থেকে বরখাস্ত হওয়া, দালালী ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটিপতি বনে যাওয়া তালার হরিহর নগর গ্রামের জনৈক মেহেদি হাসান বাবু মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দক্ষিন শাহপুর পূর্ব পাড়া মৎসজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা পাইয়ে দেবার জন্য জোর তদবীর অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শাহপুর মৎসজীবি সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দ । বিষয়টি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালার ধুলন্ডায় ভোট কেন্দ্র পুর্নবহালের দাবিতে মতবিনিময়

তালা (সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি : তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ধুলন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র পুর্নবহালের দাবিতে এক মতবিনিময় ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংশ্লিষ্ট ৫নং ওয়ার্ডবাসীর আয়োজনে শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকালে ধুলন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব সরদার আতিয়ার রহমান। সহকারী অধ্যাপক শেখ সাঈদুর রহমান সাঈদের ঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, ডাঃ হামিদুল ইসলাম, শেখ মিজানুর রহমান, শাহিনুর রহমান, এসএমসি সভাপতি অলোক দাস, শেখ আব্দুল আজিজ, মাষ্টার শায়েখুজ্জামান, শেখ নুরুল ইসলাম, মফিজুল মোড়ল, আতাউর রহমান বিশ্বাস, সোহরাব শেখ, ফারুক শেখ ও আমজাদ হোসেন শেখ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামের ঐতিহ্য ধুলন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পুর্নবহাল করতে হবে। এই এলাকার মানুষ অন্য গ্রামে যেয়ে ভোট দিবেনা। গ্রামের ঐতিহ্য রক্ষায় সকলে একযোগে কাজ করবে এবং ভোট কেন্দ্র ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন ও প্রয়োজনে মামলাসহ সবধরনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সভা শেষে ভোট কেন্দ্র পুনঃবহাল বাস্তবায়নে সহকারী অধ্যাপক শেখ সাঈদুর রহমান সাঈদকে আহবায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
উল্লেখ্য, ধুলন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে ভোট প্রদানের জন্য ভোটার ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডের মাঝামাঝি হওয়ায় ৩টি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার ভোটারের এখানে ভোট প্রদান অধিকতর সুবিধাজনক। কিন্তু আকস্মিকভাবে এবারের ইউপি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে ওয়ার্ডের একপাশে নিয়ে যাওয়া হয়। যা’ ওয়ার্ডের সকল ভোটারদের জন্য ভোট প্রদান কষ্টকর। এ কারণে এলাকার ভোটারদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে