রাজধানীতে বেড়েছে কিশোর অপরাধ

প্রকাশিত: ০৩-০৩-২০১৭, সময়: ১৭:৫৫ |
Share This

রাজধানীতে বেড়েছে কিশোর অপরাধ। পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের মারিমারি ঘটনা এখন নিত্যদিনের। এ জন্য পরিবারের উদাসীনতা ও আশপাশের পরিবেশকে দায়ী করছেন, মনোবিজ্ঞানীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কিশোরদের অপরাধ রোধে, বিট পুলিশের মাধ্যমে রাজধানীর সব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে, নজরদারি।

শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন গ্রুপের তাণ্ডব ও সহিংসতা প্রায়ই উঠে আসে গণমাধ্যমে।

গত ৬ জানুয়ারি উত্তরায় ট্রাস্ট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান খুন হয় বন্ধুদের হাতে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় তিন কিশোরকে। একই মাসের ১৯ তারিখ, তেজকুনিপাড়ায় কিশোরদের দুই গ্রুপের বিরোধে প্রাণ হারায়, ১৮ বছর বয়সী আব্দুল আজিজের। এর আগে গত বছরের ২৯ নভেম্বর, কামরাঙ্গীর চরে আলিফ, ৪ ডিসেম্বর লালবাগে রবিন এবং সবশেষ গত  বুধবার মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বন্ধুর হাতে খুন হয় সজিব মিয়া। সজিব হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ঢাকা মেডিকেলের পরিসংখ্যান বলছে, গত ৬ মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে, মারামারি ও সহিংসতার শিকার হয়ে দুই শতাধিক কিশোর এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

২০১০ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরকম সক্রিয় ৫১৬ জন কিশোর অপরাধীর একটি তালিকা করলেও, পরে আর সেটি হালনাগাদ হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দুই হাজার কিশোর অপরাধী রয়েছে।

কিশোর-তরুণরা কেন জড়িয়ে পড়ছে  সহিংসতায়? মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবারের নজরদারির অভাব আর সামাজিক নানা অসঙ্গতি এর প্রধান কারণ। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে রাষ্ট্রেরও দায় রয়েছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

পুলিশ বলছে, কিশোর অপরাধ দমনে রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় কাউন্সিলিং শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অপরাধের প্রবণতা অনেক কমানো সম্ভব বলে তারা আশাবাদী।

বিশেষজ্ঞ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সবারই মত, কিশোররা যাতে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে বা কোনো গ্রুপের সাথে না মিশে যায়, সে বিষয়ে সবার আগে সচেতন থাকতে হবে পরিবারকেই।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে