ক্লিন ইমেজের ব্যাতিক্রমী প্রিন্স

প্রকাশিত: ২৭-০৪-২০১৭, সময়: ১৯:৫৪ |
Share This

অন্য সবার মতো তিনি ছিলেন না। চলনে বলনে শৈশব থেকেই যেন একটু ব্যাতিক্রম। কিশোর বয়সের যে সময়টায় সবাই ব্যাক্তিগত প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে অভিমান-অনুযোগে ব্যস্ত সে সময়েই তিনি ব্যাক্তিগত গন্ডির বাইরে ভাবতে শিখেছিলেন। তার ভাবনার জগত বিস্তৃত হয়েছিলো পুরো দেশের জন্যেই। যেকোনো সমস্যাকে খুব গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখতেন,ভাবতেন সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের পথ। চলাফেরায় খুব শান্ত এই মানুষটির নাম এখন অবশ্য বাংলাদেশের অনেকেই জানেন, বিশেষ করে ছাত্রসমাজের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এক মুখ। তিনি মোতাহার হোসেন প্রিন্স। ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স এর ছাত্র এবং এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন মোতাহার হোসেন প্রিন্স।

খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি গড়েছেন ভিন্ন এক অভ্যাস। আন্তজার্তিক সংবাদ মাধ্যম-বিবিসি, ভয়েস অফ এমেরিকা ইত্যাদি শুনতেন খুব আগ্রহ নিয়ে। এতে করে সমসাময়িক দেশ বিদেশের ঘটনাগুলো সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। দেশের রাজনীতি কোন পথে আছে, কোথায় যাচ্ছে সে সম্পর্কে সজাগ নজর ছিলো প্রিন্স এর। বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতেন। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কথা শুনতেন। ছোট্ট প্রিন্স এর মনে গভীর মমতা বাসা বাঁধল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক লেখা পড়েছেন, দেখেছেন অসংখ্য প্রামাণ্য চিত্র। এইসবই তার মনে গভীর দাগ কেটে যায়। দেশের প্রতি দায়িত্বের তাড়নায় পেয়ে বসে তাকে। জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। সেই বাগেরহাটের ছোট্ট ভাবুক ছেলে এখন ছাত্র রাজনীতির রাজপুত্র মোতাহার হোসেন প্রিন্স।

রাজনীতিতে হাতেখড়ি

d69d0dc8-b0c8-46da-b172-f6c045b5e35cস্কুলে প্রিন্স পড়াশুনার বাইরেও অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে। উপস্থিত বক্তৃতায় তিনি অসম্ভব রকমের ভালো ছিলেন। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে লম্ভা লাফ, মোরগ লড়াই, দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে অনেকবার পুরষ্কার লাভ করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে তিনি নিজ গ্রামের বিদ্যালয় কাদিরখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন।

প্রিন্সের স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মোতাহার হোসেনরা তিন ভাই। তিনজনই প্রতিষ্ঠিত। তিনজনই পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে প্রিন্স ক্লাস সিক্স থেকেই জানতেন। এটি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ, যার আছে ঐতিহাসিক আন্দোলনের মহান ইতিহাস। জাতির শ্রেষ্ঠসন্তানরা পড়ে এখানে। রাজনীতির আঁতুড়ঘর বলা হয় ঢাবিকে। তাই জ্ঞ্যান আহরণের সমুদ্র এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন এটিই ছিলো প্রিন্স এর পরম আকাঙ্ক্ষিত একটি চাওয়া। কমার্সের ছাত্র প্রিন্স ডি ইউনিট থেকে উর্ত্তীন হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি তার ভালবাসা একটু বেশিই।

ভুলের অপর নাম শিক্ষা

প্রতিটি মানুষ জীবনে ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। ভুল থেকে কে কিভাবে শিক্ষা নিচ্ছে সেটাই বলে দেয় আসলে সে মানুষ হওয়ার পথে কতটা কাজ করছে। প্রিন্স জানান, কোনো কিছুই তাকে কেউ হাতে ধরে ধরে শিখিয়ে দিয়েছে এমন না বরং তিনি যা শিখেছেন ভুল থেকে শিখেছেন। অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে শিখেছেন। ব্যাক্তিজীবনে মহানবী (সঃ) এর জীবনদর্শন তাকে খুব ভাবায়। তার দেখানো জীবনদর্শনে তিনি খুব অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকেন। রাজনৈতিক জীবনে মোতাহার হোসেন প্রিন্স আদর্শ মানেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে।

“অ্যাই হেইট পলিটিক্স” প্রজন্মের উদ্দেশ্যে

এই প্রজন্মের একটি বড় অংশই রাজনীতি নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। ফেসবুকে লক্ষ্য করলেই দেখা যায়,অধিকাংশ বাংলাদেশী আইডিতে “অ্যাই হেইট পলিটিক্স” উল্লেখ করে থাকেন। এই প্রসঙ্গে মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, এই দেশ সকলের। দেশের কল্যানের জন্যই ছাত্রদেরকে দেশ,ইতিহাস,ভাষা আন্দোলন,মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে। পড়াশুনা করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে ছাত্রদের মধ্যেই সচেতনতা গড়া তোলা জরুরী। তিনি বলেন, এখন ছাত্ররাজনীতিতে নিয়মিত ছাত্রদেরকেই গুরুত্ব দেয়া হয়। মেধার মূল্যায়ন হয়। তাই রাজনীতিতে মেধাবীরা আসলে দেশ এগিয়ে যাবে, সমৃদ্ধ হবে।

ক্লিন ইমেজের ব্যাতিক্রম দৃষ্টান্ত প্রিন্স

বলা হয়ে থাকে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে থাকেন অছাত্ররা। এদের কারো কারো বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি, ভর্তি বানিজ্য সহ বিভিন্ন কেলেংকারির অভিযোগ শুনা যায়। তবে মোতাহার হোসেন প্রিন্সকে এক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যাতিক্রমই বলতে হয়। তিনি কলা অনুষদের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের নিয়মিত শিক্ষার্থী। ক্লাস এবং পরীক্ষায় রেগুলার অংশ নেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়।

তিনি বলেন নেতা হওয়ার জন্য অনেকেই লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি করে। তবে তিনি নিজে অনেক কস্ট করে আজকের এই পর্যায়ে এসেছেন। রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে তিনি অনেক কস্ট ভোগ করেছেন,তারপরেও লড়াই করে টিকে থেকেছেন। তাই তিনি সবসময় চান রাজনীতিতে মেধাবী এবং যোগ্যদেরই মূল্যায়ন হোক। ব্যাক্তিগত জীবনদর্শন জানতে চাইলে এই নেতা বলেন, “আমি চেস্টা করি মানুষের উপকারে আসতে,যদি সেটা একান্তই সম্ভব না হয় তবুও কারো ক্ষতি করি না কখনো। আমার কাছে কেউ আসলে কাউকে ফিরিয়ে দেই না কখনো।”

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

দেশের ক্রান্তিলগ্নে সবসময় পাশে ছিলো এদেশের ছাত্ররা। বড় বড় আন্দোলনে ছাত্ররাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ঢাবির ৩৬ হাজার শিক্ষার্থীর দূত হিসেবে নিজের দায়িত্ব সূচারুভাবে সম্পাদন করতে চান।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে