পরিবহন ধর্মঘটে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

প্রকাশিত: ০৩-০৩-২০১৭, সময়: ১৩:৫৯ |
Share This

ডেস্ক রিপোর্ট : চলতি সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ও খোঁজ নিয়ে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত কয়েকদিনের পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্যবাহী যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারেনি। তাই পণ্য সংকটের ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে দাম।

বাজারে বিভিন্ন প্রকারের সবজির দাম সামান্য বাড়তে দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি সাইজভেদে ১৫ থেকে ২৫ টাকা, ওলকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, সিম জাতভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ফালিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা, কচুরমুখী ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরলতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ও চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি সপ্তাহে মাংসের দামও রয়েছে লাগামহীন। রাজধানীতে মাংস বিক্রেতাদের ধর্মঘটের পর বৃদ্ধি পাওয়া মাংসের দাম এখনো কমেনি। খাসির মাংসও বিক্রি হচ্ছে আগের থেকে বেশি দামে। এ সপ্তাহে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, লেয়ার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে চলতি সপ্তাহে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মিনিকেট চাল মানভেদে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, আটাশ ৪২ থেকে ৪৩ টাকা, নাজিরশাইল ৪৫ থেকে ৪৮, পাইজাম ৪২ থেকে ৪৪, স্বর্ণা ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা, পারিজা ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

এছাড়া বাজারে লালশাক, কলমিশাক, পালংশাক, মুলাশাক, কুমড়াশাক ও লাউশাক পাওয়া যাচ্ছে। শাকের আঁটি সাইজভেদে পাঁচ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম সামান্য কমেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ২৮ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা হারে কম। এছাড়া ভারতীয় রসুন ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি রসুন ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এছাড়া আদা মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, খোলা হলুদ ও শুকনা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, জিরা ৪৫০, দারুচিনি ৩৫০, ধনে ১২০ থেকে ১৫০, তেজপাতা ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ সপ্তাহেও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে ডালজাতীয় পণ্য ও ডিম। দেশি মসুরের ডাল মানভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুগ ডাল মানভেদে ৯০ থেকে ১১০ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। ফার্মের মুরগির ডিম হালি প্রতি ২৮ থেকে ৩০ ও হাঁসের ডিম ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মানভেদে আটা ২৬ থেকে ৩২ টাকা ও ময়দা ৩৪ থেকে ৩৮ টাকা দরে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬৭ থেকে ৭০ টাকা, লবণ প্যাকেট মানভেদে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গুড়া দুধ কোম্পানিভেদে ৪২০ থেকে ৫৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ৮৬ থেকে ১০৬ টাকা। লুজ সয়াবিন ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন ১০০ থেকে ১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫২০ টাকায়। লুজ পামওয়েল ৭৩ থেকে ৭৫, পামওয়েল সুপার ৭৫ থেকে ৭৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারও রয়েছে স্থিতিশীল। রুই মাছ সাইজভেদে কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, কাতলা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ফার্মের কৈ মাছ কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কোরাল সাইজভেদে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি প্রকারভেদে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে