গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেবা নিয়েছেন চার লাখ রোগী

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে স্থাপিত দেশের সবচেয়ে বড় চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে বিগত তিন বছরে চার লক্ষাধিক রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অপারেশন করা হয়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি রোগীর। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেশের বিভিন্ন জেলার ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল নির্মাণ করা হয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এটি দেশের সর্ববৃহৎ চক্ষু হাসপাতাল। হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১শ’৭৮ কোটি টাকা। হাসপাতালটি চালুর পর থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত চক্ষু রোগী আসছেন চিকিৎসা নিতে। অনেকে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে যান। আবার অনেককে অপারেশনের জন্য থেকে যেতে হয়। এ হাসপাতালে অত্যাধুনিক আটটি অপারেশন থিয়েটার, পুরুষ ও মহিলা অপারেশন রোগীর থাকার জন্য রয়েছে ৯৬টি বেড।
হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. সাইফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমরা যে ভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি তাতে অদূর ভবিষ্যতে এটি দেশের মধ্যে অনন্য অবদান রাখবে।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর বিগত তিন বছরে আমরা চার লক্ষাধিক চক্ষু রোগীকে সেবা চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। ১৬ হাজার অপারেশন করা হয়েছে। গোপালগঞ্জসহ আশ পাশের ৫ জেলায় ৫১টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে সেখানে ২৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে আশপাশের জেলা গুলোতে ২০টি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েকশ’ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালটিকে একটি রোগীবান্ধব হাসপাতাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে শিশুদের জন্য খেলার জায়গা ও মহিলাদের জন্য মহিলা কর্নারও খোলা হয়েছে।

কোটালীপাড়ায় কৃষাণ-কৃষাণীদের প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ
এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় “নিরাপদ ফসল উৎপাদন কৌশল ও ব্যবস্থাপনা” বিষয়ে কৃষাণ-কৃষাণীদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী, জেলা প্রশিক্ষক হরলাল মধু বক্তব্য রাখেন।
উক্ত প্রশিক্ষণে উপজেলার ৬০ জন কৃষাণ-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার প্রশিক্ষণ শেষে কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝে বীজ বিতরণ করা হয়।

 

গোপালগঞ্জে শিক্ষকের ঘুষিতে ছাত্রের চোঁখ নষ্টের উপক্রম : উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা
এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষকের ঘুষিতে আবির্ভাব খান নামের নবম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর ডান চোঁখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। রোববার স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে তাকে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত আবির্ভাবের সহপাঠীরা জানান, ওই দিন স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইনসান উদ্দিন মোল্লা বদলী শিক্ষক হিসেবে নবম শ্রেনীর ‘খ’ শাখায় ইসলাম ধর্মের ক্লাস নিতে যান। শিক্ষক উপস্থিত থাকা সত্বেয় শ্রেনী কক্ষের পিছনের সারিতে বসে কিছু শিক্ষার্থী দুষ্টুমি করতে থাকে। এতে তিনি অসম্মানীত বোধ করেন এবং বিরক্ত হন। এক পর্যায় উত্তেজিত হয়ে তিনি ওই শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে যান এবং এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় ওই শিক্ষকের ঘুষিতে শিক্ষার্থী আবির্ভাব খানের ডান চোখ গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়।
আবির্ভাবের মা কাওসারা খানম অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকের ঘুষিতে আমার ছেলের ডান চোঁখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। আমি বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। ছাত্ররা দুষ্টুমী করলে শিক্ষক তাদের শাসন করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শাসন করতে গিয়ে অঙ্গহানি করে দেবেন এ কোন নিয়ম এ নিয়ম কোথায় আছে।
তিনি আরো বলেন, আমি গোপালগঞ্জের সীমান্তবর্তী নড়াইল জেলার বাসিন্দা হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় কারনে আমার ছেলেকে গোপালগঞ্জে স্কুলে ভর্তি করেছি মানুষ হওয়ার জন্য। আমার ছেলেটি অতিশয় বিনয়ী এবং কম কথা বলে। সে কোন দুষ্টুমী করেনি তার সহকর্মীরা আমাকে জানিয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ঘটনা ঘটার দু’ঘন্টা পর কেন আমাকে বিষয়টি জানান হলো। কেন তাকে কোন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আমি গোপালগঞ্জে এসে আমার ছেলেকে শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার করেছি। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করতে চাইলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। আমি কেন অন্য জেলার বাসিন্দা হয়ে গোপালগঞ্জের স্কুলে আমার ছেলে ভর্তি করিয়েছি এ ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে আমাকে পরমর্শ দেন ওই শিক্ষক ইনসান উদ্দিন।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইনসান উদ্দিনের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি বলেন, যারা দুষ্টুমী করছিল তাদেরকে আমি শাসন করতে চেয়ে ছিলাম। এটি নিছক একটি দূর্ঘটনা মাত্র। বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা হতে পারে এমন আশংকায় আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর অভিবাবককে দেখা করতে দেইনি। তবে তার চিকিৎসা ও খোজ খবর না নেয়া আমার ঠিক হয়নি।
স্বর্ণকলি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহে আলমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি পরে জেনেছেন। আহত শিক্ষার্থীর অভিবাবককের নিকট থেকে এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



One response to “গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেবা নিয়েছেন চার লাখ রোগী”

  1. Like!! Thank you for publishing this awesome article.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



সম্পাদক ও প্রকাশক : ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : ইজ্ঞি: মোঃ হোসেন ভূইয়া।
বার্তা সম্পাদক : জহিরুল ইসলাম লিটন
যুগ্ন-সম্পাদক : শামীম আহম্মেদ

ঢাকা অফিস : জীবন বীমা টাওয়ার,১০ দিলকুশা বানিজ্যিক (১০ তলা) এলাকা,ঢাকা-১০০০
মোবাইলঃ ০১৭১৬-১৮৪৪১১,০১৯৪৪২৩৮৭৩৮

E-mail:dnanewsbd@gmail.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ