সমুদ্রে আন্তঃদেশীয় অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে চুক্তি সই করবে বাংলাদেশ-ভারত

প্রকাশিত: ০৩-০৩-২০১৭, সময়: ১০:২২ |
Share This

বঙ্গোপসাগরের নিজ নিজ অংশে নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ ও ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাও রয়েছে। এখন এ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কার্যকরের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে এপ্রিলের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে সমুদ্রে আন্তঃদেশীয় অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে যৌথ প্রক্রিয়া নিয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই করবে দুই দেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও ভারতের কোস্টগার্ডের মধ্যে সমুদ্রপথে আন্তঃদেশীয় অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে একটি সমঝোতা হয়। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের নিজ নিজ অংশে অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে দুই দেশ সম্মত হয়। একই সঙ্গে অপরাধীরা যাতে এক দেশে অপরাধ করে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়ে একে অন্যকে সহযোগিতার বিষয়েও একটি নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল। তবে কোন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতিতে এটি কার্যকর হবে, তা নিয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। ফলে সমঝোতা হলেও এ সহযোগিতার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এবার এ সহযোগিতার বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এসওপি সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় সমঝোতা হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য একটি দিকনির্দেশনা বা প্রটোকল বা এসওপির প্রয়োজন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় নেই, এমন বিষয়গুলোই মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি এসওপি সইয়ের প্রস্তাব করেছে ভারত। বিষয়টিতে দুই দেশের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব আদান-প্রদান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের আগেই এগুলো চূড়ান্ত হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের সময়ই এটি সই করা যাবে বলে আশা করা যায়।

জানা গেছে, এ অঞ্চলে পাকিস্তান এবং এর বাইরে জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ওমান, শ্রীলংকা, মরিশাস, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশের সঙ্গেও ভারতের এ ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে এ চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে আন্তঃদেশীয় অবৈধ কার্যক্রম রোধ করতে চায় ভারত। আর বঙ্গোপসাগর দিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ। এরই মধ্যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এ ধরনের সহযোগিতামূলক সমঝোতাকে এগিয়ে নিয়ে এ নীতিকে আরো দৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে সন্তুষ্ট। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশই দ্ব্যর্থহীন ও আপসহীন। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে উভয় দেশের ঐকমত্য রয়েছে। দুই দেশই বর্তমানে সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও জঙ্গিবাদ দিয়ে তথ্য আদান-প্রদান করছে। এ বিষয়ে ২০১৫ সালে জুনে ঢাকায় নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা দুই প্রধানমন্ত্রীই জানিয়েছিলেন। এছাড়া নিজ নিজ দেশের ভূমি ব্যবহার করে অন্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে না দেয়ার বিষয়েও দুই দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন এ-বিষয়ক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চায় দেশ দুটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরেও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি থাকবে।

কূটনীতিকরা বলেন, বিষয়টি যেন সমুদ্রে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণে উন্নত সহযোগিতার জন্য হয়। কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের ভূমিকাও রয়েছে। ফলে চীনকে বিব্রত করবে, এমন কিছু যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।বণিকবার্তা।

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে